কৃষ্ণনগরের কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনে নতুন মোড়। পুলিশের জালে এবার ‘ব্যর্থ প্রেমিক’ দেশরাজের মামা কুলদীপ সিং। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। খুনের ষড়যন্ত্রে মদত দেওয়া, আটকে রাখা এবং অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দেশরাজ আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে বসবাস করত। কৃষ্ণনগরে ঈশিতার বাড়িতে ঢুকে নৃশংসভাবে খুন করার পর সে পালিয়ে যায় বলে ধারণা। তাকে ধরতে কৃষ্ণনগর থানার তিনটি দল উত্তরপ্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশরাজের বাড়ি থেকে একটি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দেওরিয়া শহরের কাছে তল্লাশির সময় ধরা পড়ে কুলদীপ সিং। সম্পর্কে সে দেশরাজের মামা। তদন্তকারীদের দাবি, ঈশিতা সম্পর্ক শেষ করতে চাইছিলেন, কিন্তু দেশরাজ বারবার হুমকি দিচ্ছিল। আত্মহত্যার ভুয়ো ভিডিও পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও ঈশিতা অনড় ছিলেন। এরপরই খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে অনুমান।
আরও জানা গিয়েছে, দেশরাজ ঈশিতা ও তাদের বন্ধুদের সঙ্গে তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বন্দুকের ছবি পোস্ট করে লিখেছিল, 'ডেডবডি সুন'। কার মৃতদেহের ইঙ্গিত দিয়েছিল সে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুলিশের অনুমান, দেশরাজ আগে থেকেই উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে তার খুড়তুতো ভাই নীতিন প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। দুইজন মিলে কি খুনের পরিকল্পনা করেছিল?
কুলদীপ সিংকে জেরা করে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত দেশরাজ এখনও অধরা। তদন্তকারীরা আশা করছেন, মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই কৃষ্ণনগরের কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের রহস্যের জট অনেকটাই খুলবে।