গ্রাফিক্স: আজতকমধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারত, বিশেষ করে বাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। রান্নার গ্যাসের জোগান কমে যাওয়া এবং দামের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ বাড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই রেশনের মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহ ফের চালুর দাবি তুলছেন। তাঁদের মতে, কেরোসিন পাওয়া গেলে অন্তত স্টোভ জ্বালিয়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এপ্রসঙ্গে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি অনেকটা করোনা সময়ের মতো হয়ে উঠছে। ২০২২ সাল থেকে রেশনে কেরোসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পরে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অল্প কিছু কেরোসিন পাওয়া গেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। শুধু জ্বালানি হিসেবেই নয়, দৈনন্দিন নানা কাজেও কেরোসিনের প্রয়োজন হয়।'
সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা উপসাগরীয় সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব শেয়ার বাজার এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যের ওঠানামাতেও স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসাও করা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক, দুই ক্ষেত্রেই এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই পিডিএস বা গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহ আবার শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন ডিলাররা। তাঁদের মতে, বহু বছর ধরে কেরোসিন ঘরোয়া রান্নার একটি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সংকটের সময়ে শহর ও গ্রামের মানুষের জন্য তা বড় সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দামের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে ডিলার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। পাশাপাশি বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন। জানা গেছে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী সোমবার কলকাতায় একটি প্রতিবাদ মিছিলেও অংশ নিতে পারেন তিনি। বৈঠকের পরই এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।