ফাইল ছবিতৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেত্রী ও কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিল দল। তাঁর জায়গায় নতুন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কালীগঞ্জের বিধায়ক অলিফা আহমেদকে। শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আলিফা আহমেদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে নতুন দায়িত্বের কথা জানান। পরে সেই খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ‘বিক্ষুব্ধ’ বা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে মালা রায়ের ঘনিষ্ঠতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অসন্তুষ্ট করে। সম্প্রতি দিল্লিতে এনডিএ-সমর্থক অবস্থান নেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে, সেখানে মালা রায়কেও দেখা যায়। এমনকি এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে দেওয়া একটি প্রস্তাবপত্রেও তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন বলে অভিযোগ।
যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দ্রুত নতুন মুখের উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে অস্থিরতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল শুরু করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পর সেই পদে আনা হয়েছিল মালা রায়কে।
এবার সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল আলিফা আহমেদের হাতে। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর ২০২৬ সালের ভোটেও দলের আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। এবার সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে মহিলা তৃণমূলের শীর্ষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে ভিডিও বার্তায় আলিফা আহমেদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কালীগঞ্জের মানুষের সমর্থন ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। এখন কালীগঞ্জের পাশাপাশি গোটা রাজ্যের মা-বোনদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেলাম। দল আমাকে এই দায়িত্বের যোগ্য মনে করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
পাশাপাশি দলের বর্তমান সংকটের সময় ঐক্যের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। আলিফার কথায়, “দলের এমন কঠিন সময়ে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।” তাঁর এই মন্তব্যকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।