Malda Flood: কুর্নিশ, বন্যায় ডুবে হাসপাতাল, সেখানেই চিকিৎসা ডাঃ অরিজিৎ ও নার্স-কর্মীদের

Malda Flood Dr Arijit: নদীর প্রবল স্রোতে চলছে ভাঙন। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কিন্তু এই দুর্যোগের মধ্যেও কয়েক জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালেই থেকে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. অরিজিৎ।

Advertisement
কুর্নিশ, বন্যায় ডুবে হাসপাতাল, সেখানেই চিকিৎসা ডাঃ অরিজিৎ ও নার্স-কর্মীদেরএমন পরিস্থিতিতেও হাসপাতাল ছেড়ে যাননি চিকিৎসক ডা. অরিজিৎ।
হাইলাইটস
  • মালদার রতুয়া ব্লক হাসপাতালের প্রায় ৪০ শতাংশ এখন জলের তলায়।
  • কয়েক জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালেই থেকে গিয়েছেন।
  • তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. অরিজিৎ।

Malda Flood Dr Arijit: গঙ্গার জল বাড়তে বাড়তে ঢুকে পড়েছে হাসপাতালের ভিতরে। কোথাও হাঁটুজল। কোথাও আরও বেশি। বিদ্যুৎ নেই। হাসপাতালের করিডরে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপ এবং নানা ধরনের পোকামাকড়। বাইরে বেরোনোরও উপায় নেই। এ যেন মূল ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ। একমাত্র ভরসা দেশি নৌকা। এমন পরিস্থিতিতেও হাসপাতাল ছেড়ে যাননি চিকিৎসক ডা. অরিজিৎ।

মালদার রতুয়া ব্লক হাসপাতালের প্রায় ৪০ শতাংশ এখন জলের তলায়। বন্যার জেরে হাসপাতাল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক দিকে বাড়ছে গঙ্গার জল। অন্য দিকে নদীর প্রবল স্রোতে চলছে ভাঙন। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কিন্তু এই দুর্যোগের মধ্যেও কয়েক জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালেই থেকে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. অরিজিৎ।

জলমগ্ন হাসপাতালের ভিতরেই চলছে রোগী দেখা। হাঁটুজল পেরিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। বিষধর সাপের ভয়ও রয়েছে। জলের মধ্যে বিভিন্ন পোকামাকড়ও ঘুরে বেড়াচ্ছে। নেই বিদ্যুৎ। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা চালানোও অত্যন্ত কঠিন। তার পরেও রোগীদের ফেলে চলে যেতে চাননি তাঁরা।

ডা. অরিজিত বললেন, 'পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এই সময়েই মানুষের চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা করা আমাদের দায়িত্ব। হাসপাতালের ভিতরে সাপ এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকলেও রোগীদের প্রতি দায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'

রতুয়া ছাড়াও মালদাের মানিকচক এবং রতনপুর এলাকায় বন্যার প্রভাব মারাত্মক। গঙ্গার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। জলের উচ্চতা প্রায় ২৬.৫ মিটার বলে জানা গিয়েছে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। রতনপুরের বেশ কিছু অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে।

জল বাড়তে থাকায় বহু পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে রতনপুর এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ জনকে উদ্ধার করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF। উদ্ধার হওয়া মানুষদের মধ্যে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং প্রবীণরাও। নদীর স্রোত প্রবল হওয়ায় স্পিডবোটে উদ্ধারকাজ চালাতেও যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।

Advertisement

রতনপুর এবং ভূতনির বহু পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সূর্যাপুর এলাকায়। সেখানে ত্রিপলের তাঁবু তৈরি করে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বন্যার জেরে শুধু হাসপাতাল নয়, এলাকার একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানও জলের তলায়। ব্লক হাসপাতাল, স্কুল এবং পঞ্চায়েত অফিসেও ঢুকে পড়েছে জল। গোটা ব্লকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ। ফলে রতুয়া ব্লক হাসপাতালের অন্ধকারও বৃহত্তর বিপর্যয়েরই ছবি তুলে ধরছে।

এহেন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি ডা. অরিজিৎ এবং তাঁর সহকর্মীরা। জল যতই বাড়ুক, বিপদের সময় চিকিৎসার প্রয়োজন আরও বাড়ে। জলমগ্ন হাসপাতালের ভিতরে দাঁড়িয়ে তাঁদের এই দায়িত্ববোধই এখন মালদাের বন্যার মধ্যে অন্য এক মানবিক ছবির তুলে ধরছে বিশ্বের কাছে। 

POST A COMMENT
Advertisement