ঘটনাকে ঘিরে রবিবার মালদা শহরের কালেক্টরেট চত্বরে তৈরি হয় চাঞ্চল্য।মালদা জেলায় ভোটার তালিকা ঘিরে অদ্ভুত পরিস্থিতি। নিজেদের ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে শত শত নয়, প্রায় কয়েক হাজার মানুষ হাজির হলেন জেলাশাসকের দপ্তরে। সংশোধিত ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের পাশে লেখা রয়েছে; ‘ডিলিটেড’। সেই কারণেই জীবন্ত থাকার প্রমাণপত্র নিয়ে নতুন করে আবেদন করতে জেলাশাসকের দপ্তরে ভিড় জমালেন বহু মানুষ। ঘটনাকে ঘিরে রবিবার মালদা শহরের কালেক্টরেট চত্বরে তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এত দিন নিয়মিত ভোট দিলেও হঠাৎ করেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম উধাও। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় নাম বাদ পড়েছে বহু ভোটারের। ফলে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার দায় এসে পড়েছে তাঁদের উপরই। কেউ জমির দলিল, কেউ আধার কার্ড, কেউ আবার পুরনো ভোটার কার্ড নিয়ে হাজির হয়েছেন জেলাশাসকের দপ্তরে।
জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা অনুযায়ী মালদা জেলায় বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। সদ্য প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জনের নাম। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় জেলায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বহু ভোটার দাবি করছেন, তাঁদের নাম কী কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
বাদের তালিকায় থাকা ভোটারদের একাংশের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিএলও-র কাছেও জমা দেওয়া হয়েছিল প্রমাণপত্র। তার পরেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’ দেখানো হয়েছে।
এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাজল মণ্ডল নামে এক ভোটার। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই তিনি জানতে পারেন তাঁর নাম বাদ পড়ে গেছে। কাজল বলেন, “কী কারণে নাম বাদ গেল, সেটা আমাদের জানানো হয়নি। শুনানির সময় আমরা সব ধরনের ডকুমেন্টস জমা দিয়েছিলাম। এখন আবার ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ দিতে জেলাশাসকের দপ্তরে আসতে হচ্ছে।”
কাজল আরও জানান, শুধু তাঁর নামই নয়, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁর মায়ের নামও। তাঁর মা বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সী। কাজলের কথায়, “আমার মা বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছেন। জমির দলিল-সহ সব নথি জমা দিয়েছি। তবু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হচ্ছে। খুবই সমস্যায় পড়েছি।”
জেলাশাসকের দপ্তরে দেখা মিলল আর এক ভোটার মাধবী হাজরা-র। তাঁর দাবি, গত ২৫ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু এবার প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। সেই কারণেই কালেক্টরেট অফিসে এসে নতুন করে ফর্ম জমা দিতে হয়েছে তাঁকে। যাতে আবার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মাধবীর কথায়, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে আসার পরেও হঠাৎ করে নাম বাদ যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ঘটনাকে ঘিরে মালদা জেলায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নাম বাদ পড়া ভোটারদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাঁদের ভোটাধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সংবাদদাতা: মিল্টন পাল