মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবিবুধবার কলকাতায় মিছিল করার অনুমতি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই অনুমতির সঙ্গে একাধিক শর্তও জুড়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় ও রুট মেনেই মিছিল করতে হবে এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও সীমিত রাখতে হবে।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে মিছিল করা যাবে। মিছিল শুরু হবে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এবং শেষ হবে হাজরা মোড়ে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, মিছিল চলাকালীন রাস্তার অন্তত একটি লেন যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। এ ছাড়া, মিছিলে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।
কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বুধবারের প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে শুনানির পর শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেয়।
যদিও মিছিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সাম্প্রতিক বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই কর্মসূচি হতে পারে। মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে, সোমবার বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে মোমবাতি মিছিলের নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গলির মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর মিছিল আটকে দেয়। তবে ব্যারিকেড পেরিয়ে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান।
সেই দিনই মমতার নির্দেশে বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল এবং বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক ধাক্কার মধ্যে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদেও রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত জনসমাগম হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বুধবারের মিছিলকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।