নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।-ফাইল ছবিউত্তরবঙ্গ থেকে সিঙ্গুর, একই দিনে বাংলার রাজনীতি ও প্রশাসনে দু’টি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। রবিবার, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গবাসীকে দিচ্ছেন উন্নয়নের জোড়া উপহার, অন্যদিকে সাড়ে ১৭ বছর পর সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই ঘটনাই বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
শুক্রবার শিলিগুড়ি সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলান্যাস করবেন বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দিরের। গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দার্জিলিঙে মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি এই মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন। ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির ও নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের পর এবার উত্তরবঙ্গেও একটি বড় ধর্মীয় পরিকাঠামো পেতে চলেছে।
এর পাশাপাশি শনিবার জলপাইগুড়িতে উদ্বোধন হতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন। প্রায় ৪০ একর জমির উপর পাহাড়পুরে নির্মিত এই ভবন উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে চলেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ একাধিক হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিশিষ্ট অতিথিরা। রাজ্যের প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঠিক একই সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্য বার্তা দিচ্ছে সিঙ্গুর। ১৮ জানুয়ারি ‘টাটার মাঠে’ জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে জমিতে একসময় টাটা ন্যানো কারখানা গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেখানেই তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য বিশাল ‘হ্যাঙার’। ২০০৮ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের জেরে টাটা প্রকল্প রাজ্য ছাড়ে, আর সেই আন্দোলনই ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। সাড়ে ১৭ বছর পর সেই সিঙ্গুরেই মোদীর সভা রাজনৈতিক ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
একদিকে মমতার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বার্তা, অন্যদিকে মোদীর শিল্পায়ন ও রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ, সব মিলিয়ে এই সপ্তাহান্তে বাংলা রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।