মমতা ও দিলীপদিলীপ ঘোষের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলীপের নাম না করে তিনি বলেন, “ওদের এক নেতা বলেছে, এবার নাকি আমার কালীঘাটের বাড়িতে হামলা হবে। বুকের পাটা থাকলে করে দেখাক। সবকটাকে লড়ে নেব। কবে করবে বলো না, আমি বসে থাকব।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাইরে থেকে যতই অফিসার পাঠানো হোক না কেন, তারা শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষেই কাজ করবেন। তাঁর কথায়, “যে অফিসারদেরই পাঠানো হোক, তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের হয়েই কাজ করবে, কারণ তারা মানুষের জন্য কাজ করতে চান।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলা সফরের দিনই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই হামলার পেছনে বিজেপি কর্মীরা জড়িত এবং এটি প্রাণনাশের চেষ্টাও হতে পারে। ঠিক ওই দিনই ব্রিগেডের সভা থেকে অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইসিইউতে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়।
রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের পর ইকোপার্কের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাইরের লোক লাগবে না, আমরাই তৃণমূলকে মারতে পারি। সারা বাংলায় মারব। আমাদের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। কলকাতায় যদি করতে পারি, তবে সারা বাংলাতেই করতে পারব।”
তিনি আরও দাবি করেন, শশী পাঁজা হামলার ঘটনায় ‘নাটক’ করছেন। অতীতের ঘটনাও টেনে এনে তিনি বলেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও আগে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাবধান না হলে শুধু মাথায় নয়, শরীরের আরও অনেক জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে। প্রয়োজনে বোমা-বন্দুকও আসবে।”
এখানেই থেমে থাকেননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “শশী পাঁজার বাড়িতে যদি হামলা হতে পারে, তাহলে কালীঘাটেও হতে পারে। মদন মিত্র বা চেতলায়ও হামলা হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।