মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট (ছবি: পিটিআই)তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় দ্বন্দ্ব চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে দলের প্রতীক ও নাম নিয়ে দড়ি টানাটানি চরমে। এমন পরিস্থিতিতে জোড়াফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটা ফ্রিজ করে দিয়েছে কমিশন। যদিও এবার কমিশনের অন্তবর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আপিল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হয়ে শীর্ষ আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে। সব পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হোক।
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর থেকেই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়েছেন ৬০ জন বিধায়ক। বাদবাকি বিধায়ক রয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি পেতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশন একটি অন্তবর্তী নিদেশ দেয়। তারা জানিয়ে দেয়, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করা হল। তৃণমূলের আসল মালিকের খোঁজ পাওয়ার পরই প্রতীক এবং নাম দেওয়া হবে।
এই অবস্থায় ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে দুই পক্ষকেই অন্তবর্তী প্রতীক এবং নাম ঠিক করে দিয়েছে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের প্রতীক ফুটবল প্লেয়ার। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নাম হল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। খাম চিহ্ন দেওয়া হয়েছে তাদের।
দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পরই গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা কালো দিন। সেই সঙ্গে কমিশনের সমালোচনাও করেন তিনি। মমতা দাবি করেন, শিবসেনা, এনসিপি ভাঙানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দিচ্ছে বিজেপি।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের অন্তবর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন মমতা। আর সুপ্রিম কোর্ট জানাল, দ্রুত শুনানি করা হবে। শুধু তাই নয়, এই মামলায় যুক্ত করা হবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এখন দেখার দলের প্রতীক ও নাম ফিরে পান কি না মমতা।