
নিজস্ব চিত্রচতুরাশ্রমের একটি অধ্যায় 'বানপ্রস্থ'। ২০২১-এ তৃণমূলে সেই ছবি স্পষ্ট। বিজেপি-তে 'মার্গদর্শন মণ্ডলী' নামক একটি পদের আবির্ভাব হয়েছিল ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ে। লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশীদের মতো প্রবীণদের ঠাঁই হয়েছিল সেই মণ্ডলীতে। ২০২১ সালের তৃণমূলে সে রকম কোনও মণ্ডলী হয়নি ঠিকই, তবুও কয়েকটি ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের হাতে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। যার নির্যাস, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পরেই প্রবীণ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের এই উত্থান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ঢিলে দুই পাখি হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও দলত্যাগ
দলের গুরু-দায়িত্ব নেওয়ার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিণত রাজনীতিবিদের ভূমিকাই পালন করলেন। এই অভিষেককে ঘিরেই বিধানসভা ভোটের আগে দলের অন্দরে বিদ্রোহ তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক নেতা দলত্যাগ করেন স্রেফ অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে। অভিষেকের পরামর্শেই প্রশান্ত কিশোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ভোট রণনীতি তৈরির। স্বাভাবিক ভাবে রাগের কারণ হন তিনিও। শুভেন্দু অধিকারী সহ তামাম বিজেপি নেতৃত্ব বারবার 'তোলাবাজ ভাইপো' বলে আক্রমণ শানিয়েছে অভিষেককে।

অভিষেকের সাফল্য
২০২১-এর বিধানসভা ভোট পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঠিক ১০ বছর আগে যেরকম মমতার ক্ষমতায় আসার পরে নয়া অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। ২০২১-এর নির্বাচনে মমতার পর তিনিই ছিলেন দলের দ্বিতীয় তারকা প্রচারক। জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার করেছেন। ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে দলের নিয়ে আসার সিদ্ধান্তও ছিল তাঁরই। তাঁর সেই পরিশ্রম এবং সিদ্ধান্তের ফল পেয়েছে তৃণমূল। গত শনিবার তৃণমূলের যুবনেতার পদ থেকে সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ করলেন তিনি।

বয়স ৩৩। অথচ এরই মধ্যে রাজ্য রাজনীতি ছেড়ে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে ঢুকে পড়লেন তৃণমূলের দুবারের সাংসদ অভিষেক। আপাতত তাঁর লক্ষ্য একটাই, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। জাতীয় রাজনীতিতে মোদী-বিরোধী প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে ক্রমশই প্রকট হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। অভিষেকের দায়িত্ব, জাতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজ্যে তৃণমূলের ভিত প্রতিষ্ঠা করা।

সৌজন্যতা ও আশীর্বাদ
অভিষেককে ঘিরে দলের অন্দরে বিধানসভা ভোটের আগে যাঁদের ক্ষোভ ছিল, তাঁরা অনেকেই আজ তৃণমূলে নেই। বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে যে সব নেতারা ছিলেন, অনেকেই ভোটের আগে বিজেপি-তে যোগ দেন। তেমনই আবার দলের জন্মলগ্নের বহু নেতা দলের সঙ্গেই রয়েছেন। তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই যে সব নেতারা তৃণমূল দলটির অন্যতম মুখ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, সুব্রত বক্সী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দলের প্রবীণ তো বটেই, মমতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের শুরু থেকে শরিক। অভিষেক এঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরেরই সূত্রপাত।