সুপ্রিম কোর্টে শুনানিসোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের SIR মামলার শুনানি শুরু হতে না হতেই হট্টোগোল পড়ে যায়। পক্ষে এবং বিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য পেশ করার চেষ্টা করতেই ক্ষুব্ধ হন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। SIR নিয়ে কোনও বাধা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সাফ বার্তা দেন তিনি।
> এদিন শুনানির শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের SIR মামলার আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীও সে সময়ে জানান, একটি মন্দির পরিচালনকারী সংস্থার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবেদন জানিয়েছে। কেন এমন একটি সংস্থা হস্তক্ষেপ করছে তা নিয়ে আপত্তি জানান এই আইনজীবী। অন্যদিকে, আইনজীবী মুকুল রোহতাগিও একটি ইস্যু তোলার চেষ্টা করেন। হট্টোগোল বেধে যায় কোর্টরুমে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি।
> প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'আপনারা শৃঙ্খলা মেনে না চললে জানেন প্রধান বিচারপতির হাতে কী ক্ষমতা রয়েছে। সমস্ত মামলা আমি ছুড়ে ফেলে দেব। আপনারা কি সবজির বাজারে বসে আছেন নাকি? ভুলে গিয়েছেন এটা কোর্টরুম?'
> এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ফের একবার SIR ইস্যু উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। হাতে একদম সময় নেই। তাই উপযুক্ত নির্দেশাবলী পাওয়া প্রয়োজন। রাজ্যের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই নোটও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আইনজীবী তথ্য উল্লেখ করে জানান, ৩২ লক্ষ মানুষ এখনও আনম্যাপড। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের। সামান্য কারণে তাঁদের নাম কাটান যেতে পারে।
> রাজ্যের আইনজীবী এ-ও জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে ৮ হাজার ৫০৫ জন অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতিও জানতে চান, 'সমস্যা তো এখানেই। কর্মী দিয়েছেন। তাঁদের নামের তালিকা আছে? আমরা বলেছিলাম বাংলা জানেন এমন কর্মী প্রয়োজন।'এই নামের তালিকা কমিশন পেয়েছে কি না তা-ও জানতে চান বিচারপতি। কারণ 'দত্ত বা দত্তা কিংবা গাঙ্গুলি বা গঙ্গোপাধ্যায়' সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তিনিও চান না। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনও অফিসারদের নামের তালিকা তারা পায়নি। কেবলমাত্র জেলাভিত্তি অফিসারদের সংখ্যা জানানো হয়েছে তাদের।
> জবাবে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর জন্য নামের তালিকা সম্পূর্ণ তৈরি কেবলমাত্র অনুমোদনের অপেক্ষা। ৫ কিংবা ৬ ফেব্রুয়ারি এই তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। কার্যত ভর্ৎসনা করেই প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এই নামের তালিকা আগেই আপনাদের পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কোর্টের মাধ্যমে পাঠানোর অপেক্ষার প্রয়োজন ছিল না।'
> এদিন রাজ্য সরকারের তরফে কোনও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত রয়েছেন কি না, জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই শুনানিতে উপস্থিত থাকা প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা মনোজ পন্থকে প্রধান বিচারপতি পরপর জানতে চান কতজন AERO, ERO নিয়োগ করা হয়েছে আসন ভিত্তিক। তিনি জানান, ৬৫% গ্রুপ বি, ১০-১২% গ্রুপ সি এবং বাকি গ্রুপ এ কর্মী।
> আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির সওয়াল, 'পিএসইউ থেকে নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ তাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।' তবে এতে অসুবিধার কিছু নেই বলেই মনে করছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, 'আমরা পাঁচটি চিঠি দিয়েছিলাম। যেখানে স্পষ্ট করে বলা ছিল কোন ধরনের অফিসারদেরই আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অনুযায়ী কর্মী আমাদের দেওয়া হয়নি।'
> প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, 'যে কোনও নির্দেশের প্রয়োজন হলে আমরা দেব। কিন্তু SIR প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা আমরা বরদাস্ত করব না। এই বিষয়টি সব রাজ্যকে স্পষ্ট ভাবে বুঝে নিতে হবে।'
> বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'আপনারা বলছেন, ৫০ বছরের ব্যবধান দাদু-নাতির সম্পর্কে। তবে বাস্তবে তো ২০ বছর বয়সেও বিয়ে হয়।' প্রধান বিচারপতি, 'আপনা ৫-৬ সন্তান থাকলে নোটিশ পাঠিয়েছেন, ৫০ হলে মানা যেত। এই সফ্টওয়্যার অত্যন্ত কঠোর।'