কলকাতা হাইকোর্টের নবনির্মিত জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ ভবনের উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ জানালেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা, মিডিয়া ট্রায়াল এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা। শনিবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর সামনেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের নবনির্মিত জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ ভবনের উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ জানালেন। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষার আবেদন জানান। আর সেই সময়েই তোলেন তদন্তকারী সংস্থার 'অপব্যবহারে'র অভিযোগ। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জনসমক্ষে মামলা নিয়ে পর্যালোচনার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। বলেন, কোনও নাগরিককেই যেন ইচ্ছাকৃতভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা না করা হয়। মমতা বলেন, 'আমি এই কথাগুলো কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে বলছি না। গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষ এবং সংবিধানের স্বার্থেই শুধুমাত্র আমার উদ্বেগ প্রকাশ করছি।'
প্রধান বিচারপতিকে 'সংবিধানের অভিভাবক' হিসেবে সম্বোধন করেন মমতা। বলেন, বিচারব্যবস্থাকে সব ধরনের পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সংবিধান, গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, দেশের ইতিহাস ও ভূগোল; এমনকি দেশের সীমানাও যাতে কোনও বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে, সে দিকটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর সেই কাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অর্থপাচার মামলার তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশিতে যায় ইডি। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীও সেখানে পৌঁছে যান। ইডির সামনেই আইপ্যাকের অফিস থেকে ফাইল বের করে এনে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে। মমতার অভিযোগ, তল্লাশির নামে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে দলের গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই আবহে মমতার এই বার্তা যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ির এই সার্কিট বেঞ্চ বিল্ডিং কলকাতা হাইকোর্টের থেকেও আধুনিক। ৪০ একরের বেশি জমির উপর তৈরি। খরচ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।