তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।Mamata Banerjee 21 July: আগামিকাল ২১ জুলাই। তার আগের দিন, সোমবার সন্ধ্যায় সভাস্থল পরিদর্শনে এসে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। মঞ্চের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা এবং আদালতের অনুমতি মেলা সত্ত্বেও হয়রানির অভিযোগ তোলেন মমতা।
সভাস্থলে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশের কোনও কর্ডন নেই, সিকিউরিটি নেই। যাঁরা মিডিয়ার জন্য একটু কর্ডন করতে পারেনি, এটুকু সৌজন্য দেখাতে পারেনি, আমার কিছু বলার নেই।'
'রেড রোডে যোগা হয়, আমাদের পারমিশন দেওয়া যায় না কেন?' প্রশ্ন মমতার
এ বারের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া নিয়ে কম টানাপড়েন চলেনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, 'কোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও, আমাদের এই স্টেজ সাজানোর জন্য অনেক দেরি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল লোডশেডিংও করে দেওয়া হয়েছিল। এই বর্ষা, জল জমে আছে, তা সত্ত্বেও কিন্তু আমরা আয়োজন করছি।' মমতার প্রশ্ন, 'আমরা আসতে আসতে দেখলাম, অনেক রাজনৈতিক দলের মিটিং, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হচ্ছে। তাদের পারমিশন কারা দেয়? শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে পারমিশন দেওয়া যায় না? এটা কোন ধরনের রাজনীতি?'
বিজেপি-কে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকে লোক এনে এ রাজ্যে ভিড় জমানো হচ্ছে। অথচ তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা কর্মীদের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হয়নি, থাকার জায়গা পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মমতা বলেন, 'সব বারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাও এরা এসেছে প্রাণের টানে, হৃদয়ের টানে। আমরা ধর্মতলায় পারমিশন চেয়েছিলাম, দেওয়া হয়নি। রেড রোডে, মেয়ো রোডে, ডোরিনা ক্রসিংয়ে; কোথাও অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাত দিন ধরে রেড রোড বন্ধ করে যোগার প্যান্ডেল করা যায় সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে না দিয়ে, আর আমরা যদি বছরে একদিন একটি প্রোগ্রাম করি, যা ৪০ বছর ধরে হয়ে আসছে, সেটা পারমিশন দিলে কী মহাভারত অশুদ্ধ হত?'
দিল্লির প্রসঙ্গও তুললেন
এ দিন দিল্লির ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ছাত্রদের ওপর দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, 'ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্রদের উপর দিল্লি পুলিশ যেভাবে অত্যাচার করেছে, সোনমকে যেভাবে তুলে নিয়ে গিয়েছে, তার আমি নিন্দা জানাই। আমি ভেবেছিলাম, ২১ জুলাইয়ের পর একবার দিল্লি যাব। কিন্তু এখন দেখছি, ওদের তো জোর করে অনশন তুলিয়ে দিয়েছে।' পাশাপাশি জেলা স্তরে তৃণমূল কর্মীদের থানায় আটকে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হাই কোর্টের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি
এ বারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও তৃণমূলের আইনি লড়াই গড়ায় আদালত পর্যন্ত। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষ অনুমতির নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে একদিকের রাস্তা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মানুষকে নিয়ে এই কর্মসূচি করা যাবে। অন্যদিকের রাস্তাটি সচল রাখতে হবে যান চলাচলের জন্য। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত সভার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আদালতে শুনানি চলাকালীন রাজ্যের তরফে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল। রাজ্যের যুক্তি ছিল, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতাল থাকায় ৫০০-র বেশি লোক হলে সমস্যা তৈরি হবে। লোকসংখ্যা বেশি হলে ব্রিগেড বা সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাল্টা তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্য আসলে সভার অনুমতিই দিতে চাইছে না। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে প্রতি বছর এই সভা হলেও এবার তা আটকে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বাদানুবাদের পর আদালত ৩ হাজার লোকের বিধি এবং ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের শর্তে সভার ছাড়পত্র দেয়।