শুনানিতে কী বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
Posted by :- Arindam
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানিতে বলতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, 'আমাকে দয়া করে বলতে দেওয়া হোক। আমি ওই রাজ্য থেকেই এসেছি। ' তখন দেশের প্রধান বিচারপতি বললেন, 'আপনি ওই রাজ্য থেকেি এসেছেন,এতে কোনও সন্দেহ নেই।' এরপর ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বললেন, সমস্যাটা হল, সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আইনজীবীরা লড়াই শুরু করেন। যখন মানুষ বিচার পাচ্ছে না, তখন ন্যায়বিচার বন্ধ দরজার আড়ালে কাঁদছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে তিনি ছ’টি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু কোনও জবাব পাননি। মমতা জানান, তিনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ, একজন “বন্ডেড লেবার”-এর মতো অবস্থায় রয়েছেন। তিনি কোনও দলের হয়ে লড়াই করছেন না, লড়ছেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে।
এই সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই বিষয়ে আবেদন করেছে। রাজ্যের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সেরা আইনজীবীরা হাজির রয়েছেন। বিচারালয়কে সহায়তা করতে উপস্থিত আছেন কপিল সিবাল, গোপাল শংকরনারায়ণন ও শ্যাম ডিভানের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ১৯ জানুয়ারি যখন মামলাটি উঠেছিল, তখন কপিল সিবাল খুব স্পষ্ট ও যুক্তিপূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সাধারণ নাগরিকদের সমস্যাগুলির কথা তুলে ধরেছিলেন। বিষয়গুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি সমস্যারই সমাধান থাকে। সবচেয়ে জরুরি হল—কোনও নির্দোষ নাগরিক যেন বাদ না পড়ে।
তিনি বলেন, SIR প্রক্রিয়া মূলত তিনটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এক, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। দুই, যারা রাজ্যের বাইরে স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছেন। তিন, যারা দেশের নাগরিক নন। এই তিন ক্ষেত্রে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। বাংলার মানুষ উচ্চারণের ভিন্নতার জন্য অনেক সময় নাম আলাদা ভাবে বলা বা লেখা হয়। এখন আবার এআই-ভিত্তিক রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। এই ধরনের ভুলের কারণে কোনও প্রকৃত ও বৈধ নাগরিক যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, এটাই নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, নীতিগতভাবে যদি এমনটা হয় যে রায়, দত্ত, গঙ্গোপাধ্যায়, এই সব সাধারণ পদবীর বানান আলাদা আলাদা ভাবে লেখা হচ্ছে, তাহলে সেটাই তো সমস্যা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামই আজকাল কীভাবে বানান হচ্ছে, সেটাও তো আমরা নিশ্চিত নই, কেউ ‘E’ ব্যবহার করেন, কেউ করেন না।
এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেঞ্চ অনুমতি দিলে তিনি প্রধান বাংলা সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু ছবি দেখাতে পারেন, যেখানে এই সমস্যাগুলি স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে। মমতা আরও বলেন, বর্তমান SIR প্রক্রিয়াটা কার্যত শুধুই নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সামান্য অমিল বা তথাকথিত “মিসম্যাচ” হলেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উদাহরণ দেন, কোনও মেয়ে বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে গেলে এবং স্বামীর পদবি ব্যবহার করলে সেটাকেও মিসম্যাচ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, মেয়েরা বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে ঠিকানা বদলালেও সেটাকেও ডিলিশনের কারণ ধরা হচ্ছে। মমতা বলেন, কাজের প্রয়োজনে বহু মানুষ ঠিকানা বদল করেন। সেটাকেও “লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি” বলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অন্যায়।