২৮ জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ১টায় সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি মাঠে প্রশাসনিক সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০ দিন পর। সিঙ্গুরের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় চার বছর পর সিঙ্গুরে মমতা। সময়টা তাৎপর্যপূর্ণ। জায়গাটাও। ২৮ জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ১টায় সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি মাঠে প্রশাসনিক সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সূত্রের খবর, ওই মঞ্চ থেকে একাধিক শিলান্যাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দেবেন। ভোটমুখী বাংলায় এই সভা ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। কেন?
এই সভার ঠিক ১০ দিন আগেই সিঙ্গুরে 'টাটার মাঠে' জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও শিল্প নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা করেননি। শুধু বলেছিলেন, 'বাংলায় না শিল্প হচ্ছে, না কৃষি।' এটুকুই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে কিছুটা হতাশই হয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ।
'টাটাকে বাংলায় ফেরাবো', প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু, খোদ নরেন্দ্র মোদী শিল্প প্রশ্নে নীরব কেন? বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হয় তো ভোটের আগে সাবধানী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে ভোটে ভরাডুবি হয়েছিল। বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর অবস্থানেও ভোটারদের 'মতামতের মেরুকরণ' হয়েছিল বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। হয় তো সেই কারণেই নীরব ছিলেন মোদী। তবে তার ঠিক পরপরই মমতার সিঙ্গুর সফরের গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে; ভোটের আগে এই সিঙ্গুর থেকেই কি কোনও বড় ঘোষণা করবেন?
অভিনব প্ল্যান
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবার নতুন পন্থায় প্রশাসনিক সভা করতে চলেছেন মমতা। একদিকে যেমন সিঙ্গুরে সভা হবে, তেমনই হুগলি জেলা জুড়ে, বিভিন্ন স্থানে 'মিনি সভা'র আয়োজন করছে রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদল। নাম দেওয়া হয়েছে 'বাড়ি উৎসব'। সূত্রের খবর, ওই দিন জেলার প্রতিটি ব্লক সদর এবং পঞ্চায়েত এলাকায় আলাদা আলাদা জমায়েত হবে। কার্যত একদিনে হুগলিতে শতাধিক সভা বসতে চলেছে। সিঙ্গুর থেকেই রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার হাতে 'আমার বাড়ি' প্রকল্পের অনুমোদন তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও ভোটমুখী বাংলায় এর রাজনৈতিক অভিঘাত সুদূরপ্রসারী হতে পারে, মত ওয়াকিবহাল মহল।
আজও শিল্প নিয়ে বার্তা দিয়েছেন
মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে শিল্প নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আবারও স্পষ্ট করেছেন, বনধের বিরোধী তিনি। বলেন, বাম আমলে অগুনতি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল জমানায় একদিনও বনধ হতে দেওয়া হয়নি। শিল্পপতিদের উদ্দেশে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনজাতি ও সংরক্ষিত গোষ্ঠীর দাবিদাওয়া উপেক্ষা করলে তার প্রভাব শিল্পের উপরই পড়তে পারে। সংঘাত মানেই রাস্তা অবরোধ, কোম্পানি বন্ধ। এমন পরিস্থিতি কারও জন্যই ভাল নয় বলে মন্তব্য করেন মমতা।
শিল্প প্রসঙ্গে মমতা বলেন, 'এখন শিল্পপতিদের গন্তব্য বাংলা। একের পর এক কারখানা হচ্ছে, বিনিয়োগ আসছে।' যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছ'টি করিডরের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন।
এহেন প্রেক্ষাপটে সিঙ্গুরে মমতার প্রশাসনিক সভাকে নিছক কর্মসূচি হিসাবে দেখছেন না কেউই। বাংলার রাজনীতিতে সিঙ্গুরের তাৎপর্য কারও অজানা নয়। সেই সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকেই ২০২৬ এর রণনীতি স্পষ্ট করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, জল্পনা রাজনৈতিক মহলের। আর সেই কারণেই আপাতত বুধবারের সভার দিকেই নজর সকলের।