প্রতীকী ছবিকেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫৯৫টি শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রেল, প্রতিরক্ষা, পুলিশ, প্রকৌশল ও বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষেবাসহ একাধিক দফতরে এই নিয়োগ হবে। সংসদের একটি স্থায়ী কমিটিকে সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। মোট শূন্যপদের প্রায় ৫৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লক্ষ ৮ হাজার ১২৯টি পদে নিয়োগ করবে রেলওয়ে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে ভারতীয় রেল দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করে আসছে।
এছাড়া স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC) প্রায় ৬৫ হাজার ৩৩১টি পদে এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) ১০ হাজার ১৩৫টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আবার কিছু নিয়োগ পরীক্ষা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি ব্রিজলালের নেতৃত্বাধীন কর্মী, জনঅভিযোগ, আইন ও বিচার বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি সরকারি নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ইউপিএসসি ও কর্মী ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) কার্যক্রমের উপর নজরদারি করে।
শুধু শূন্যপদ পূরণ নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে কমিটিতে। সদস্যরা কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবহার বৃদ্ধি, দ্রুত উত্তরপত্র প্রকাশ এবং পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়িত উত্তরপত্র দেখার সুযোগ দেওয়ার মতো একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ১.৮৩ লক্ষ নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, রেল, আধাসামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থায় বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় বিলম্ব, আইনি জটিলতা, নথি যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০২২ সালে সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২১-২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৭.২২ লক্ষ মানুষ স্থায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি পেয়েছেন। একই বছরে আরও জানানো হয়েছিল যে, ইউপিএসসি, এসএসসি এবং রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩.৭৭ লক্ষ প্রার্থীকে বিভিন্ন পদে নির্বাচিত করেছে।
নতুন করে ১.৮৩ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের এই উদ্যোগকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কর্মীসংকট দূর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রেল, এসএসসি এবং ইউপিএসসি-র অধীনে বিপুল সংখ্যক নিয়োগ হওয়ায় দেশের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর নজর এখন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপরই।