
বসন্তের মনোরম আবহের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ফের অশনি সংকেত। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা বিপুল জলীয় বাষ্প এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জেরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে অকাল বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত চলবে, যার প্রকৃতি অনেকটাই ‘মিনি’ কালবৈশাখীর মতো।
কলকাতায় আপাতত পরিস্থিতি খুব একটা অশান্ত না হলেও, জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির দাপট দেখা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ২১ মার্চ পর্যন্ত আবহাওয়া অস্থির থাকবে বলে জানানো হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বড়সড় বিপদের সম্ভাবনা না থাকলেও, চা-বাগান ও ঢালু রাস্তায় কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে হলুদ ও কমলা সতর্কতা। হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ঝড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। আগামী সপ্তাহ জুড়েই এই জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। বীরভূমের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
১৭ মার্চের পর ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে, তবে ২১ মার্চ পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে বলেই পূর্বাভাস।
এই আবহাওয়ার জেরে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হতে পারে, নিচু এলাকায় জল জমে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কাঁচা বাড়ি বা অস্থায়ী দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ, ঝড়-বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলাই ভাল। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে।