মিঠুন চক্রবর্তীবাংলায় বিজেপি সরকার তৈরির পরই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ জোর কদমে শুরু হয়েছে। আর সেই প্রক্রিয়া শুরুর পরই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কোচবিহারের তিন বিধা করিডরের কাছে এই কাজে বাধা দিতে শুরু করেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে তাদের সতর্ক করে দিলেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
কোচবিহারের একটি ক্যানসার সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মিঠুন। তিনি বলেন, 'তারা (বিজেবি) বাধা দিতে চাইছে। এবার এই কাজটা তারা করলে কী হয় দেখুন।'
যদিও এই বিষয়টা নিয়ে বেশি কিছু মন্তব্য করতে চাননি এই বিজেপি নেতা। কারণ, রাগে তিনি খারাপ কিছু বলে দিতে পারেন বলে নিজেই আশঙ্কা করছেন। তবে মিঠুন জোর দিয়েছেন, বিজেবি কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ধমকি দিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা করে দেখা উচিত এর পরিণাম কী হয়।
অনুপ্রবেশ রোখা জরুরি
সাংবাদিকদের সামনেই বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মিঠুন। তাঁর মতে, শুভেন্দুর কাঁধে দায়িত্ব চাপার পরই সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সময় অনুপ্রবেশ রোখাটাই হল প্রধান কাজ। আর সেই কারণে সীমান্তে কাঁটাতার লাগাতেই হবে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপি এবারের ভোটের আগে বর্ডারে কাঁটাতার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আর পার্টি ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ রুখতে সেই কাজটা শুরু হয়ে গিয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি দাবি করে আসছে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জমি চাইছে কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল সরকার সেটা দিচ্ছে না। এর ফলে অনুপ্রবেশের সমস্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এসবের মাঝেই রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। সরকারে এসেছে বিজেপি। তারা প্রথমেই বিএসএফ-কে জমি দিতে শুরু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত নেন
মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিয়ংয়েই কাঁটাতার লাগানোর জন্য জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। যদিও এই সিদ্ধান্তের পর যখন বিএসএফ কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের তিন বিঘা করিডরের কলসিগ্রামে সমীক্ষার কাজ শুরু করে, তখনই বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাধা দিতে শুরু করেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিএসএফ এবং বিজিবি-এর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। এমনকী এই পরিস্থিতিতে মেখলিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরই বিজেবিকে হুঁশিয়ারি দিলেন মিঠুন।