তমান্না খুন মামলাতমান্না খাতুন খুনের মামলায় একের পর এক গ্রেফতারি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। আর আজ আবার ১ জনকে গ্রেফতার করা হল। এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর মোট ৯ জনকে ধরল পুলিশ। আর এই ঘটনায় মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পর এহেন কড়া অ্যাকশনের প্রশংসা করেছেন সিপিআইএম-এর একমাত্র বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানানো অবশ্যই উচিত। আমরা চাইব আগামী ৫ বছরও যেন এই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেই রাজ্য চালায়।'
প্রসঙ্গত, ২৩ জুন, মঙ্গলবার তমান্নার মা, সিপিআইএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। তমান্নার মৃত্যুর ঘটনার বিচার ও অন্যান্য একাধিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারপরই কড়া অ্যাকশন নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশের পরই পরপর গ্রেফতার চলছে।
আর এই কড়া অ্যাকশনে খুশি মোস্তাফিজুর। এই বাম বিধায়ক আমাদের বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী সময় দিয়েছিলেন বলে সম্ভব হয়েছে। এর আগের সরকার তো ছিল দুষ্কৃতীদের সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা কখনও দুষ্কৃতীদের ধরত না। প্রশ্রয় দিত। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছেন। তিনি তা করেছেনও। গত ২৩ তারিখে তামান্নার মা, আনিস খানের বাবা এবং দীপু দাসের ছেলেকে সময় দিয়ে, তাদের কথা শোনার পরপরই তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।'
পাশাপাশি তিনি জানান, গত ১৫ বছরে সিপিআইএম কর্মী, বাম সমর্থক কর্মী এবং তৃণমূল বিরোধী বহু কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। খুন-মার্ডার করা হয়েছে। অথচ তারা এখনও বিচার পায়নি। তাই এমন পরিস্থিতিতে এই সব অপরাধীদের শাস্তি চাইছেন তারা।
পাশাপাশি তিনি বললেন, 'গত ১৫ বছরে যে সমস্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকেই তাদের তালিকা চেয়েছেন। পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি এর ব্যবস্থা করবেন। আমরা পার্টির রাজ্য কমিটিতে এ বিষয়ে কথা বলেছি। খুব শীঘ্রই সেই তালিকা জমা দেব।'
যদিও গণতন্ত্রে আইনের শাসনের পক্ষে সওয়াল করেও সিপিআইএম-কে শত্রু বলে দাগিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ি। তিনি বলেন, 'সিপিআইএমের বাহবার আশায় আমরা বসে নেই। সিপিআইএম আমাদের চরম শত্রু।'
তাঁর অভিযোগ, 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, যাদের বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই, তাদের কথা শোনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি না। জ্যোতি বসু বলতেন, আরশোলা আবার পাখি, বিজেপি আবার পার্টি। আমাদের কার্যকর্তাদের কেরলায় চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সেটা ২০১৪ সালের পরেও হয়েছে। হাত-পা কেটে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন রাজ্যসভায় গিয়েছেন, সেরকম পা কাটা একজন মানুষ। তাই সিপিআইএমের কোনও বাহবার প্রয়োজনীয়তা আমরা মনে করি না। আমাদের কাছে সিপিআইএম-এর কোনও রকম আদর, খেজুর, পীরিতের কোনও জায়গা নেই। আমরা সিপিআইএমকে ঘৃণা করি, আইডিওলজিক্যালি ঘৃণা করি। ঘৃণাই করব।'
যদিও তিনি জানালেন, গণতন্ত্রে বিরোধীদের জায়গা দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একটা ছোট্ট শিশু তমান্না, যাকে বোম ছুড়ে মারা হয়েছিল। এটা পৈশাচিক, মধ্যযুগীয়, বর্বর, অসভ্য বর্বর কাজ হয়েছিল। তার প্রতিবাদ তখনও করেছিলাম। এখনও করেছি। আর মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। এভাবেই আইনের শাসন চালায় বিজেপি। সিপিআইএম দেখে শিখুক।'