মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই কলকাতা থেকে বেনারস! ৬১০ কিলোমিটার ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ নিয়ে বড় আপডেট

Varanasi Kolkata Expressway: ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ নামেও পরিচিত। এটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বারাণসী থেকে কলকাতা পৌঁছাতে বর্তমান ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার যাত্রা কমে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় নেমে আসবে। ফলে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য চলাচল, দুটিই দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই কলকাতা থেকে বেনারস! ৬১০ কিলোমিটার ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ নিয়ে বড় আপডেট
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
  • একসময় রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং বিজেপি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।

Varanasi Kolkata Expressway: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একসময় রাজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং বিজেপি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। এই পরিবর্তনের পর রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের হাতে এসেছে। এর প্রভাব শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলেই সীমাবদ্ধ নেই; দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক বড় প্রকল্পও নতুন গতি পাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে’।

দেশের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই মেগা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মান এই এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে প্রশাসনিক মহলে এখন বিশেষ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র, রুট পরিবর্তন এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন প্রকল্পটি ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। তবে এখন সেই বাধাগুলি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকল্পের আটকে থাকা অংশগুলোতে কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এখনও প্রায় ১০৩ হেক্টর বনভূমি সংক্রান্ত অনুমোদন এবং পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ নামেও পরিচিত। এটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বারাণসী থেকে কলকাতা পৌঁছাতে বর্তমান ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার যাত্রা কমে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় নেমে আসবে। ফলে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য চলাচল, দুটিই দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিহারে নির্মাণ কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং ঝাড়খণ্ডে প্রয়োজনীয় বন বিভাগীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অংশে ভূমি অধিগ্রহণ, রুট পরিবর্তন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের কারণে কাজের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়া জেলার মধ্য দিয়ে এই এক্সপ্রেসওয়ে যাওয়ার কথা। তাই এখানে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে বন্যপ্রাণীদের চলাচলের জন্য আন্ডারপাস তৈরি করা হবে, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্থাপন করেন। সরকার লক্ষ্য নিয়েছে ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার। এটি শুধু একটি সড়ক প্রকল্প নয়, বরং পূর্ব ও উত্তর ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। বারাণসী, গয়া, রাঁচি এবং কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে যুক্ত করে এই এক্সপ্রেসওয়ে আঞ্চলিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও লজিস্টিকস ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

 

POST A COMMENT
Advertisement