
বর্ষার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা কি শেষ হল? বর্ষার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা কি শেষ হল? মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণবঙ্গের জেলায়-জেলায় শুরু হওয়া বৃষ্টি সেই প্রশ্ন তুলে দিল। এদিন রাতের বৃষ্টি অসহ্য গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এল। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে সন্ধ্যার পর । কলকাতার একাংশে ঝোড়ো হাওয়া চলে, সেইসঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, হাওড়া, হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার হিজলনা এলাকায় বালি খাদানে বাজ পড়ে কর্মরত ৬ শ্রমিকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করবে বর্ষা, আগেই এই পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল হাওয়া অফিস। অর্থাৎ পরশু থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাংশে বর্ষা নামার সম্ভাবনা। সেইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাংশে ভারী বৃষ্টি চলবে। হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা- আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচটি জেলা অর্থাৎ- দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হবে। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে ১৬ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। যেহেতু পাঁচ দিন ধরে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হবে এবং বেশ কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে এর ফলে দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এ ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গের সমস্ত নদী বিশেষ করে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, কালচিনি এইসব নদীতে জল স্তর বৃদ্ধি পাবে। নীচু জমিতে জল জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে চাষবাসের ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দৃশ্যমানতাও পাহাড়ে অনেকটাই কমবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা খুব একটা পরিবর্তন হবে না, কিন্তু ২৪ ঘন্টা পর থেকে দুই থেকে তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ।
এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে আগামী ১৬ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করবে ও উত্তরবঙ্গের বাকি যে জেলায় বর্ষা এখনও ঢোকেনি সেখানেও বর্ষা প্রবেশ করবে ১৬ তারিখ। তবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করবে একটু দুর্বল ভাবে। দক্ষিণবঙ্গে ১৬ তারিখ পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টি হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না । তবে ২৪ ঘন্টা পর থেকে মেঘাচ্ছন্ন হবে আকাশ, তারপরে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে শুরু হলে আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি কিছুটা কমবে। এই মুহূর্তে কলকাতায় আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি অনেকটাই বেশি, সেইসঙ্গে কলকাতার রাতের তাপমাত্রা অনেকটা বেশি।