সেপ্টেম্বরে বর্ষার বড় খেলা, বঙ্গোপসাগর থেকে কী খবর এল? দেখুন Satellite Monsoon Forecast

ভারতের সামগ্রিক বর্ষার ছবির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধ। মরসুম শেষে দেশের মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ভর করছে। এখন দেখার, বর্ষা কতটা সক্রিয় হয়।

Advertisement
সেপ্টেম্বরে বর্ষার বড় খেলা, বঙ্গোপসাগর থেকে কী খবর এল? দেখুন Satellite Monsoon Forecastবর্ষার বড় আপডেট
হাইলাইটস
  • বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপের সম্ভাবনা।
  • বর্ষার বৃষ্টি কতটা সেটাই এখন দেখার।

পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফের জোরদার হতে পারে বর্ষার দাপট। সৌজন্যে উপগ্রহ চিত্র। তাতে দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হয়েছে অনুকূল পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে আগামী ৭ থেকে ১০ দিন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।

বঙ্গোপসাগর থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ বায়ুসংঘাত অঞ্চল (Atmospheric Convergence) তৈরি হয়েছে। অ্যাটমসফেরিক কনভার্জেন্স কী? সহজ ভাষায়, এই ধরনের অঞ্চলে বিভিন্ন দিক থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু এসে মিলিত হয়। এর হাত ধরেই জন্ম নিতে পারে নিম্নচাপ।

আগামী সপ্তাহে একাধিক নিম্নচাপ

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, আগামী ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এই অঞ্চলে তৈরি হতে পারে একাধিক নিম্নচাপ। সেগুলি পশ্চিমমুখী হয়ে মধ্য ভারতের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা। স্থলভাগে ঢোকার পর এই নিম্নচাপগুলির প্রভাবে পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষার মরসুমে যে সব অঞ্চলে এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধ ভারতের সামগ্রিক বর্ষার ছবির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই সময়ে কতটা বৃষ্টি হয়, তার উপর নির্ভর করতে পারে মরসুম শেষে দেশের মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আবহবিদদের মতে, বর্ষা কতটা সক্রিয় হয় তার উপর নির্ভর করে বর্তমান হিসাবের তুলনায় মরসুমের মোট বৃষ্টিপাতে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত হেরফের হতে পারে।

বর্ষার খামখেয়ালিপনা

চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু অবশ্য এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একেবারেই সমান বৃষ্টি দেয়নি। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও আবার প্রবল ঘাটতি, এই বৈপরীত্যই এবারের বর্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সামগ্রিকভাবে এখনও পর্যন্ত দেশে ৫৮৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৬৭৯.৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ দেশের বৃষ্টিতে এখনও ১৩ শতাংশ ঘাটতি। তবে এই ঘাটতি সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এখনও ভারতের আবহাওয়া দফতরের নির্ধারিত ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টিপাতের শ্রেণিতেই রয়েছে।    

Advertisement

এখন বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হতে চলা নিম্নচাপগুলি কতটা শক্তিশালী হয় এবং সেপ্টেম্বরের গোড়ায় পূর্ব ও মধ্য ভারতে কতটা বৃষ্টি হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে চলতি বছরের বর্ষার শেষ ছবি। আগামী কয়েক দিন তাই দেশের মৌসুমী বায়ুর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত আবহবিদদের।

কোথায় কোথায় বেশি বৃষ্টি?

বৃষ্টির নিরিখে সবচেয়ে বড় উদ্বৃত্ত লাদাখে। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ২০৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউয়ে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। ওড়িশায় উদ্বৃত্ত ২৫ শতাংশ। দিল্লিতেও স্বাভাবিকের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

কোথায় কোথায় কম বৃষ্টি?

অন্যদিকে, দেশের বেশ কিছু রাজ্যে বর্ষার ঘাটতি। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি মেঘালয়ে। সে রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। মণিপুরে ঘাটতি ৪৩ শতাংশ এবং বিহারে ৪২ শতাংশ। অরুণাচল প্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ।

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement