ছবিঃ পিটিআইআষাঢ় মাস শুরু হয়ে গেছে। ক্যালেন্ডারের হিসেবেও এখন বর্ষাকাল। বাংলায় বর্ষার প্রবেশ ঘটলেও এখনও পর্যন্ত দেখা মেলেনি টানা বৃষ্টির। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন একটাই, এই হাঁসফাঁস করা পরিস্থিতি থেকে কবে মিলবে মুক্তি? কবে নামবে স্বস্তির বৃষ্টি? সেই উত্তরই দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানী ড. সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায় bangla.aajtak.in-কে বলেন, 'আমাদের রাজ্যে ১২ জুন বর্ষা প্রবেশ করেছে। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর তেমন শক্তি নেই। বৃষ্টি নামানোর মতো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের মতো বড় কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। আগামী ২-৩ দিন একই ধরনের গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে ২০ জুনের পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে তাপমাত্রা বড়জোর ২-৩ ডিগ্রি কমতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে এবার বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের সম্ভাবনা কম। বরং ঘন ঘন বজ্রপাত হতে পারে। সেই কারণেই বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ বছর দক্ষিণবঙ্গে অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্ষার বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পরিমাণ বাড়বে। ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। রবিবার থেকে তাপমাত্রার পারদও কিছুটা নামতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। তবে ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি, এই পাঁচ জেলায় সপ্তাহজুড়েই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এছাড়া দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার সম্ভাবনা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।