ফাইল ছবিসরকারি ও বেসরকারি স্তরে সচেতনতার প্রচার চললেও নাবালিকা বিয়ে পুরোপুরি রোখা যাচ্ছে না। পালিয়ে গিয়ে বা গোপনে একের পর এক নাবালিকা বিয়ের ঘটনা সামনে আসছে। তারই প্রভাব স্পষ্ট কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ১৯ বছরের কম বয়সি মায়ের সংখ্যা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, উভয়কেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এখানে ৬২১ জন নাবালিকা মা হয়েছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪৭০। অর্থাৎ, গত দুই বছরে গড়ে প্রতি মাসে ৫০ জনেরও বেশি নাবালিকা সন্তান প্রসব করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স মাত্র ১৫ বছর।
এই সংখ্যা শুধু কালনা মহকুমার নয়, হুগলি, নদীয়া এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও বহু নাবালিকা এখানে প্রসবের জন্য আসছেন। শনিবারই পৃথক দু’টি ঘটনায় গোপনে বিয়ে করে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া দুই নাবালিকার স্বামীকে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সচেতনতার পরেও রোখা যাচ্ছে না
নাবালিকা বিয়ে আটকাতে ব্লক থেকে পুরসভা পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি দল গড়ে তোলা হয়েছে। স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাব সক্রিয়। হাট-বাজার, জনবহুল এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সর্বত্র সচেতনতার প্রচার চলছে। পুরোহিত, ইমাম, মৌলবি, ডেকরেটর, মাইক ও ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, সকলকেই এই প্রচারে যুক্ত করা হয়েছে।
তবুও সমস্যার সমাধান হয়নি। মোবাইলের বাড়বাড়ন্ত, অভিভাবকদের নজরদারির অভাব, নানা কারণ সামনে আসছে। কয়েক মাস আগে কালনা থানার এলাকায় পরিবারের অমতে বিয়ে করতে না পেরে এক নাবালিকা ও তার প্রেমিক আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শেষ মুহূর্তে পুলিশের তৎপরতায় তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়।
হাসপাতালের বক্তব্য
কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সহকারী সুপার গৌতম বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোনও প্রসূতি হাসপাতালে এলে ভর্তি নিতে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এমন কোনও নির্দেশিকা তাঁদের কাছে নেই। তবে প্রতিটি ঘটনাই নিয়মিতভাবে পুলিশকে জানানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের সময় মা ও শিশুর শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আরও ব্যাপক সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রশাসনের মত
মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'এই পরিসংখ্যান কেবল কালনা মহকুমার প্রতিফলন নয়। আশপাশের জেলা থেকেও নাবালিকারা এখানে আসছেন। মহকুমা জুড়ে সচেতনতার প্রচার অব্যাহত রয়েছে।'