বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে ট্রেন-সড়ক অবরোধমুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সকাল থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ল ট্রেন চলাচল, জাতীয় সড়ক। ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। বাংলাদেশি সন্দেহে ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙা ওই শ্রমিক খুন হন বলে অভিযোগ। ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার খবর বেলডাঙায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। রেললাইন ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। টায়ার জ্বালানো হয়। ঘটনার জেরে ব্যাহত হয় রেল চলাচল। জাতীয় সড়কে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, মৃতের নাম আলাউদ্দিন শেখ। বয়স ৩৬ বছর। পেশায় ফেরিওয়ালা। তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা। পাঁচ বছর আগে ঝাড়খণ্ডে কাজের জন্যা যান। সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন।
আলাউদ্দিনের পরিবার সূত্রে খবর, গত পরশু তাঁকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। বাংলা থেকে যাওয়ায় বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। আধার কার্ড দেখিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তিনি নাকি ভয়ও পাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর ফোন বন্ধ ছিল। জানা যায়, শুক্রবার সকালে খবর আসে গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ উদ্ধার হয়েছে।
এই ঘটনায় এক্স হ্যান্ডেলে যাত্রী ভোগান্তির ছবি, ভিডিও পোস্ট করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দু এক্সে জানান, "মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় জাতীয় মহাসড়ক প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে কিছু সমাজবিরোধীদের দ্বারা অবরুদ্ধ। পাথর ছুড়ছে তারা। ট্রেন চলাচল জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকা গুন্ডাদের আধিপত্যে পূর্ণ। এখনও পর্যন্ত পুলিশের কোনও পদক্ষেপের দেখা যাচ্ছে না।"
The lawlessness on full display since day before yesterday, right from Farakka to Chakulia is spreading like wildfire.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 16, 2026
The National Highway at Beldanga; Murshidabad district, has been completely obstructed by anti social elements for almost 3 hours now. Rampant stone pelting is… pic.twitter.com/HOJZUV7lww
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও এই ঘটনার নিন্দা করেন। এক্সে তিনি লেখেন, "মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার মহেশপুর, একটি জাতীয় মহাসড়ক ২-৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ রয়েছে - এবং রাজ্য প্রশাসন নীরবে তাকিয়ে আছে!"
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব়্যাফ নামে।