মাদক পাচারের অভিযোগে ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, হুমায়ুনের বেয়াইকে ঘিরে বিতর্কHumayun Kabir news: হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাকে 'রাজনৈতিক চক্রান্ত' বলেই দাবি করেছেন হুমায়ুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি চিহ্নিত করে ফ্রিজ় করার কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, গত কয়েক বছরে বেআইনি মাদক কারবারের মাধ্যমে এই সম্পত্তি তৈরি হয়েছে।
জেলা পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, গত বছর ২৫ মার্চ শরিফুলের বাড়ির কাছাকাছি এলাকা থেকে তাঁর এক আত্মীয় জিয়াউর রহমানকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক-সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই শরিফুল ইসলামের সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসে বলে পুলিশের দাবি। এরপর থেকেই তাঁর সম্পত্তির উৎস নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, গত সাত বছরে মাদক পাচারের লভ্যাংশ দিয়েই লালগোলার নলডহরি-সহ একাধিক এলাকায় জমি, বাড়ি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি কেনা হয়েছে। তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। উপরমহলের অনুমতি মেলার পর সোমবার থেকে মোট ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। এমনকি কয়েকটি বাড়ি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসাবেই এই অভিযান চলছে। আগামী কয়েক দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে।
অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। নিজের দলও শুরু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, 'ধৃত জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার মেয়ের শ্বশুরের কোনও ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক ভাবে আমাদের অপদস্থ করতেই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।'
হুমায়ুন আরও দাবি করেন, তাঁর বেয়াইয়ের ইটভাটা ও জমি কেনাবেচার বৈধ ব্যবসা রয়েছে এবং তাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন। পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।
হুমায়ুনের মেয়ে নাজমা সুলতানাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, 'আমার বাবার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ভাল অবস্থাসম্পন্ন পরিবারে বিয়ে দেওয়া কোনও অন্যায় নয়।'
অন্য দিকে, জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবেই আইন মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।