ফাইল ছবিরাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার পড়ল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জেরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলা সময়সীমা-বদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ কার্যত থমকে গিয়েছে। নতুন শিক্ষামন্ত্রী এখনও দায়িত্ব না নেওয়ায় শিক্ষা দফতর শূন্যপদের হালনাগাদ তালিকা স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে তুলে দেয়নি। ফলে কাউন্সেলিং ও সাক্ষাৎকার, দুই প্রক্রিয়াই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে-র পর থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং ফের শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকারের সূচিও ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। অথচ এখনও পর্যন্ত শিক্ষা দফতর শূন্যপদের সংশোধিত তালিকা কমিশনের হাতে দেয়নি। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, 'শূন্যপদের নির্ভুল তথ্য না পেলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব নয়।'
বর্তমানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১২,৫১৪টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩,৩১৪টি শিক্ষক পদ পূরণের দায়িত্ব রয়েছে এসএসসি-র উপর। এছাড়াও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের পরীক্ষার উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের কাজও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ১৭,২০৯ জনের চাকরি বাতিল করে দেয়। একইসঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণের নির্দেশ দেয় আদালত। প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগাস্ট করা হয়।
এদিকে, বিভাগীয় তথ্যের অসঙ্গতির কারণেও বহু প্রার্থী সমস্যায় পড়েছেন। নিয়োগের সুপারিশ পেলেও অনেকেই এখনও চাকরি নিশ্চিত করতে পারছেন না। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে, সংশোধিত শূন্যপদের তালিকা চেয়ে শিক্ষা দফতরকে চিঠি দিতে হয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে।
এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা ও অ্যাপটিটিউড টেস্টও স্থগিত রয়েছে। ফলে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াই এখন কার্যত অনিশ্চয়তার আবহে আটকে।