ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। Nipah Virus Bengal: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ? রাজ্যে দু’টি সম্ভাব্য নিপাহ সংক্রমণের খবর মিলেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। সোমবার, ১২ জানুয়ারি প্রথম এই সংক্রমণের বিষয়ে জানা যায়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এ ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে ওই দু’টি সন্দেহভাজন কেস ধরা পড়ে। এই ল্যাব ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের অধীনস্থ।
নিপা ভাইরাস একটি অত্যন্ত সংক্রামক জুনোটিক রোগ। পশু থেকে মানুষের শরীরে হয়। এরপর মানুষের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রয়েছে এই ভাইরাসের। মৃত্যুহারও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ফলে এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে কেন্দ্র ও রাজ্য।
সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবর সামনে প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়নের পাশাপাশি অবিলম্বে কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা নিয়েও কথা হয়। সেই আলোচনার পরই কেন্দ্রের তরফে রাজ্যে ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম পাঠানো হয়।
এই বিশেষজ্ঞ টিম রাজ্যে নজরদারি, তদন্ত এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কাজে রাজ্য প্রশাসনকে সহায়তা করবে। দলটিতে কলকাতার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, চেন্নাইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি, কল্যাণীর এইমস এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনস্থ ওয়াইল্ডলাইফ দফতরের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ওয়াইল্ডলাইফ বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যস্তরে প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে স্টেট ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম বা আইডিএসপি ইউনিটকে নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন পাঠিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি দিল্লির পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারও অ্য়াকটিভ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা নিজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনে কথা বলার পাশাপাশি একটি চিঠিতেও কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাজ্য যাতে এই পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে, তার জন্য সব রকম সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যকে প্রযুক্তিগত, পরিকাঠামোগত এবং প্রশাসনিক সব ধরনের সহায়তা করছে কেন্দ্র। ল্যাব টেস্টিং বাড়ানো, নজরদারি জোরদার করা, আক্রান্তদের চিকিৎসা, সংক্রমণ রোধে কঠোর নিয়ম বিধি মেনে চলা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ; সব কিছুর উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বার করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন রেখে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।