মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীআন্তঃরাজ্য সীমানায় আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, আজ থেকেই আলু, ফলমূল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য পরিবহণে অযথা বাধা বা হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি সরকারি নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। বিশেষ করে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ, ট্রাক আটকানো এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চাষিদের বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। আন্তঃরাজ্য সীমানায় পুলিশি হয়রানির অভিযোগও বারবার উঠেছিল।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। আলু চাষিদের পাশাপাশি ফল, সবজি ও শস্য উৎপাদকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রশাসনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কোভিড-পরবর্তী সময়ে রাজ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎকালীন সরকার ভিন রাজ্যে আলু রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল। তার জেরে রাজ্যের বহু আলু ব্যবসায়ী বাজার হারান এবং চাষিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় বহু ট্রাক সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আন্তঃরাজ্য সীমানায় হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর ফলে ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্যে আলুর দামও ব্যাপক বেড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত আলু না পাওয়ায় অন্যান্য রাজ্য থেকে বেশি দামে আলু কিনতে বাধ্য হয়েছিল বহু রাজ্য।
এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার আলু ব্যবসায়ীদের হারানো বাজার ফেরাতে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।