মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবিরাজ্যে ধর্মীয় কারণে পশুবলি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়ম না মেনে বা যত্রতত্র পশুবলি দেওয়া এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে গরু, বলদ, মহিষ ও বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পশুকে বলি দেওয়ার আগে তার উপযুক্ততা সম্পর্কে সরকারি অনুমোদিত শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই শংসাপত্র যৌথভাবে দেবেন সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক।
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সেই পশুকেই বলির অনুমতি দেওয়া হবে যার বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর। এছাড়া, বার্ধক্য, গুরুতর আঘাত বা দুরারোগ্য রোগের কারণে যদি কোনো পশু স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারায়, সেক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতি মিলতে পারে।
নতুন নিয়মে আরও জানানো হয়েছে, শংসাপত্র থাকলেও প্রকাশ্য জায়গা, রাস্তার ধারে বা খোলা এলাকায় পশুবলি দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
কোনও ব্যক্তি যদি শংসাপত্র না পান, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে।
সরকারি আধিকারিক বা পশুচিকিৎসকরা বলিপ্রাঙ্গণ পরিদর্শনে গেলে তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্ট অতীতে প্রকাশ্যে পশুবলি এবং গণ-বলির উপর নিয়ন্ত্রণ আনার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’-এর কঠোর প্রয়োগে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও সরকারের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো এবং জনপরিসরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।