প্রতীকী ছবি।-ফাইল ছবিরাজ্য সরকারি কর্মীদের ‘ডেথ গ্র্যাচুইটি’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল নবান্ন। জানা গেছে, এতদিন সরকারি বিধিতে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞায় বিবাহিতা কন্যাসন্তান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। ফলে বহু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হত। এবার সেই সমস্যারই সমাধান করল অর্থ দফতর।
সোমবার অর্থ দফতরের পেনশন শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংবিধানের ৩০৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাজ্যপাল West Bengal Services (Death-cum-Retirement Benefit) Rules, 1971–এর ৭ নম্বর নিয়মের নির্দিষ্ট উপধারায় সংশোধন করেছেন। এই সংশোধনের ফলে ‘ডেথ গ্র্যাচুইটি’ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত ও সময়োপযোগী হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘পরিবার’ বলতে এখন বোঝানো হবে-
১) মৃত পুরুষ কর্মীর স্ত্রী
২) মহিলা কর্মীর স্বামী
৩) সৎ পুত্র-সহ পুত্রসন্তান
৪) অবিবাহিতা, বিধবা ও বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা (সৎ কন্যা-সহ)
৫) ১৮ বছরের কম বয়সি ভাই, অবিবাহিতা বা বিধবা বোন
৬) প্রয়াত কর্মীর বাবা
৭) প্রয়াত কর্মীর মা
৮) বিবাহিত কন্যাসন্তান
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সংশোধনের ফলে বিবাহিত কন্যারাও এবার গ্র্যাচুইটির অধিকার পাবেন। এতদিন তাঁরা ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞার বাইরে থাকায় বহু আবেদন ঝুলে থাকত বা আইনি টানাপোড়েন তৈরি হত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যদি কোনও সরকারি কর্মীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তাঁর বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যার গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত দাবি অমীমাংসিত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেই মামলাগুলি পুনর্বিবেচনা করে নিষ্পত্তি করতে পারবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব প্রশাসনিক দফতরকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলিও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এই সহানুভূতিশীল পদক্ষেপে মৃত কর্মচারীদের বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটবে।