পার্থ চট্টোপাধ্যায়।-ফাইল ছবিজেলমুক্তির পর প্রথম জনসংযোগে নেমে ভাতা নীতিকে সমর্থন করলেও কর্মসংস্থানকে সবার আগে রাখার বার্তা দিলেন বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'ভাতা এই প্রথম দেওয়া হচ্ছে না। বাম আমলেও ভাতা ছিল, বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও রয়েছে। তবে সবচেয়ে জরুরি হল কর্মসংস্থান।'
২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশন-সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। সে সময় তিনি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ও পরিষদীয় দফতর দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারের পর মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে একই মামলায় সিবিআই-এর হাতেও গ্রেফতার হন তিনি। একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর কারামুক্তি হয় তাঁর।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে বিধায়ক হিসেবে বেহালা পশ্চিমের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনসংযোগে নামলেন পার্থ। আর সেখানেই ভাতা-রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন।
তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএম প্রশ্ন তুলেছে, জনসংযোগের আড়ালে কাকে বার্তা দিতে চাইছেন তিনি। বিজেপির দাবি, ভাতার বদলে আরও বহু কর্মসংস্থান তৈরি করা যেত। এমনকি শাসক দল তৃণমূলের একাংশও ইঙ্গিত করেছে, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তবে এদিন পার্থ শুধু ভাতা বনাম কর্মসংস্থান প্রসঙ্গেই আটকে থাকেননি। নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছনোকেই প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, 'বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এদিকে বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের বুলেটিন অনুযায়ী, তাঁকে বিধানসভার গ্রন্থাগার কমিটি, আবাসন ও অগ্নিনির্বাপণ জরুরি পরিষেবা কমিটি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভা বিধি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী, কোনও মন্ত্রী বা বিরোধী দলনেতা স্থায়ী সমিতির সদস্য হতে পারেন না। বর্তমানে মন্ত্রিত্বে না থাকায় বিভিন্ন কমিটিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।