ভূপেন্দ্র যাদব ও শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবিপশ্চিমবঙ্গের উপযুক্ত এলাকায় বাঘ ছাড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার কলকাতায় এই কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁর বক্তব্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কলকাতায় জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ZSI)-র ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘অ্যানিমেল ট্যাক্সোনমি সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে যাদব বলেন, বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের এই পরিকল্পনা দেশের বৃহত্তর সংরক্ষণ কর্মসূচিরই একটি অংশ। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের পরিবেশ-সংক্রান্ত নীতি ও শাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্বমঞ্চেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাজস্থানের সারিস্কা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসনের উদাহরণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সেখানে বাঘের সংখ্যা শূন্যে নেমে এলেও পরিকল্পিত সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৬-তে পৌঁছেছে। তাঁর কথায়, একই ধরনের বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের উপযুক্ত এলাকায় বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাদবের মতে, বর্তমান সময়ে সংরক্ষণ আর শুধু পরিবেশ রক্ষার একটি পৃথক বিষয় নয়; এটি টেকসই উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কেন্দ্রের লক্ষ্য।
এ প্রসঙ্গে তিনি মিশন লাইফ আন্তর্জাতিক সৌর জোট দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো জোট, ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স-এর মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে ভারত শুধু পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, বরং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণের নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কলকাতার এই অনুষ্ঠান থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রের ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বৈজ্ঞানিক তথ্য, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।