Tulu Mondal Case: মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার লক্ষাধিক টাকার পাকিস্তানি নোট, তদন্তে পুলিশ

ওই নেতার ফ্ল্যাটে তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে একটা বিষয় প্রথমেই পরিষ্কার—পাকিস্তানের মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে বলেই তার সঙ্গে কোনও বেআইনি কাজের যোগ রয়েছে, এমনটা এখনই বলা যায় না। কেন ওই মুদ্রা সেখানে ছিল, কীভাবে এসেছিল এবং এর সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তদন্তে সেটাই বেরিয়ে আসবে।

Advertisement
মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার লক্ষাধিক টাকার পাকিস্তানি নোট, তদন্তে পুলিশমমতা ঘনিষ্ঠ নেতার বাড়ি থেকে পাকিস্তানি নোট উদ্ধার
হাইলাইটস
  • মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার ফ্ল্যাটে থরে থরে পাকিস্তানি নোট!

মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার ফ্ল্যাটে থরে থরে পাকিস্তানি নোট! উদ্ধার হয়েছে ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা! সঙ্গে সৌদি আরবের মুদ্রা, পাকিস্তানের মুদ্রা এবং ১৫০-এর বেশি জমির দলিল! একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে গিয়ে একসঙ্গে এত বিপুল নথি ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের ওই ফ্ল্যাটে পাকিস্তানের টাকা এল কীভাবে? কার কাছ থেকে এল? কেনই বা রাখা হয়েছিল? আর ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার ভারতীয় টাকা এবং এত বিপুল জমির দলিলের সঙ্গে এই বিদেশি মুদ্রার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ওই নেতার  ফ্ল্যাটে তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে একটা বিষয় প্রথমেই পরিষ্কার—পাকিস্তানের মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে বলেই তার সঙ্গে কোনও বেআইনি কাজের যোগ রয়েছে, এমনটা এখনই বলা যায় না। কেন ওই মুদ্রা সেখানে ছিল, কীভাবে এসেছিল এবং এর সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তদন্তে সেটাই বেরিয়ে আসবে। কিন্তু বিদেশি মুদ্রা, বিপুল নগদ এবং ১৫০-র বেশি জমির দলিল একসঙ্গে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের গুরুত্ব যে অনেকটাই বেড়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর এখানেই আসছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই তল্লাশি কি শুধুই একটি সম্পত্তি সংক্রান্ত তদন্ত? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় আর্থিক যোগসূত্র? তদন্তকারীদের হাতে ইতিমধ্যেই এমন কিছু নথি এসেছে বলে জানা যাচ্ছে, যেগুলির সূত্র ধরে একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এবার ফ্ল্যাট এবং বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ডিআরসি জালিয়াতির তদন্ত করতে গিয়ে একাধিক নথি এবং একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর বেশ কিছু নাম তদন্তকারীদের সামনে আসে। এরপরই শুরু হয় আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং নথিপত্রের সূত্র ধরে তদন্ত। আর তল্লাশিতে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, সেটি হল পাকিস্তানের মুদ্রা। কারণ ভারতীয় টাকা তো থাকতেই পারে, সৌদি আরবের মুদ্রাও কোনও পুরনো ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত কারণে কারও কাছে থাকতে পারে। কিন্তু একই জায়গায় পাকিস্তানি মুদ্রাও পাওয়া যাওয়ায় তদন্তকারীরা সেটির উৎস জানতে চাইছেন। এই নোটগুলি কোথা থেকে এল, কবে এল, কার মাধ্যমে এল—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

শুধু বিদেশি মুদ্রা নয়, উদ্ধার হয়েছে ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার ভারতীয় টাকা। অর্থাৎ নগদ টাকার পরিমাণও যথেষ্ট। এই টাকা কোনও বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ কি না, তার কোনও হিসাব বা নথি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। পাশাপাশি ১৫০-র বেশি জমির দলিল উদ্ধারের বিষয়টি আরও বড় হয়ে উঠেছে। এতগুলি জমির নথি কেন এক জায়গায় ছিল, সেগুলি কার নামে, কবে কেনা হয়েছে এবং কীভাবে লেনদেন হয়েছে—সবই এখন তদন্তের আওতায়। আর এবার তদন্তকারীরা পৌঁছে গিয়েছেন ডোমকলের বাড়িতেও। সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর রাত প্রায় বারোটা নাগাদ পুলিশ বেরিয়ে যায় বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। ব্যাগে করে সেই নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা।

অর্থাৎ একদিকে বোলপুরের ফ্ল্যাটে বিদেশি মুদ্রা এবং বিপুল জমির দলিল, অন্যদিকে ডোমকলের বাড়ি থেকে নথি উদ্ধার। ফলে তদন্তের জাল এখন আরও ছড়িয়ে পড়ছে। আর এখানেই আসছে পরবর্তী বড় প্রশ্ন—এই দুই জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না? কারণ তদন্তকারীদের হাতে যদি এমন নথি থাকে, যা সম্পত্তি কেনাবেচা, নগদ লেনদেন কিংবা অন্য কোনও আর্থিক কারবারের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে সেই নথি থেকেই গোটা আর্থিক ছবিটা পরিষ্কার হতে পারে। পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, দুর্নীতির টাকা কোনও এক পর্যায়ে তাঁর কাছেও গিয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে এই দাবি এখনও তদন্তের অংশ। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে অভিযোগ বা তদন্তকারীদের দাবি হিসেবেই দেখতে হবে।

আর এবার আসল রহস্য—পাকিস্তানি নোট। এই নোট কি শুধুই বিদেশি মুদ্রা হিসেবে পড়ে ছিল? নাকি এর সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট লেনদেনের যোগ রয়েছে? তদন্তকারীরা সম্ভবত সেই উত্তরই খুঁজছেন। একইসঙ্গে সৌদি মুদ্রা কেন ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তল্লাশিতে বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি ভারতীয় নগদ এবং জমির নথি পাওয়ার কথা সামনে এসেছিল। এবার নতুন করে ডোমকলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নথি উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছেছে। এখানে আরও একটি পুরনো তথ্য সামনে আসছে। ২০২২ সালের ৯ জুন, গরু পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল বলে জানা যায়। সেই সময় তিনি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের তৎকালীন দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত। তবে পুরনো সেই মামলার সঙ্গে বর্তমান ডিআরসি জালিয়াতির তদন্তকে এক করে দেখা যাবে না। বর্তমান মামলায় তদন্তকারীরা নতুন করে কী তথ্য পেয়েছেন, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন নজর রয়েছে উদ্ধার হওয়া নথির দিকে। কারণ ১৫০-র বেশি জমির দলিল মানে তদন্তকারীদের সামনে সম্পত্তির একটি বড় ছবি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোন জমি কার নামে, কত টাকায় কেনা হয়েছিল, টাকা কোথা থেকে এসেছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর যদি নথি থেকে পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে।

আর তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার উৎস কী? পাকিস্তানি নোটের উৎস কী? সৌদি মুদ্রা কেন ছিল? ১৫০-র বেশি জমির দলিলের পিছনে কী লেনদেন রয়েছে? আর ডোমকলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে কী নতুন তথ্য পাওয়া গেল? একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি, তারপর একটি বাড়িতে পাঁচ ঘণ্টার অভিযান, বিদেশি মুদ্রা, বিপুল নগদ এবং শতাধিক জমির দলিল—সব মিলিয়ে তদন্ত যে এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বলাই যায়। কিন্তু আপাতত সবচেয়ে বড় চমক—মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে যুক্ত ফ্ল্যাটে পাকিস্তানি নোট! ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, সৌদি আরবের মুদ্রা, পাকিস্তানের মুদ্রা এবং ১৫০-র বেশি জমির দলিল—এই সবকিছুর আসল যোগসূত্র কোথায়, সেটাই এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর সামনে এলেই বোঝা যাবে, এই তল্লাশিতে আসলে কত বড় তথ্যের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

রিপোর্টার-শান্তনু হাজরা
 

POST A COMMENT
Advertisement