প্রতীক জৈন কেআইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানা। কলকাতায় তাঁর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে সাত সকালে পৌঁছে যায় ইডি। পাশাপাশি আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিসেও অভিযান চালায় ইডি। তল্লাশি অভিযানের সময় সটান হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির সামনে দিয়ে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক ও প্রতীকের ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। এই পরিস্থিতে প্রশ্ন উঠছে কে এই প্রতীক জৈন। তাঁর কাছে কী এমন তথ্য ছিল যে ইডির সামনেই প্রোটোকল ভেঙে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান মমতা? কয়লা পাচার কাণ্ডে ইডি কেন তাঁর বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালাল?
কে এই প্রতীক জৈন?
রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালায় ইডি। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরের তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।
আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা কর্ণধার হওয়ার পাশাপাশি প্রতীক জৈন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান। তাঁর কাছে রয়েছে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন সব নথি। প্রতীক আইআইটি বম্বের প্রাক্তন ছাত্র। তিনি ভোটকুশলী, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং প্রশাসনিক প্রচার কর্মসূচিতে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অফিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে প্রতীকের সংস্থা আইপ্যাক। কয়লা পাচার কাণ্ডে ইডির আতশকাচের নীচে রয়েছেন অভিষেক। এর আগে একাধিকবার কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিষেককে তলব করে ইডি। তিনি হাজিরাও দেন। এবার তল্লাশি হল তাঁর পরামর্শদাতা সংস্থায়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আইপ্যাকের ভূমিকা
ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের তৈরি সংস্থা ছিল আইপ্যাক। ২০১৯ সাল থেকে আইপ্যাক তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করছে। একুশের নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করে আইপ্যাক। এই সংস্থা ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী, আমলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই পরামর্শদাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়। প্রচারের পুরো প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে।