রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।-ফাইল ছবিরাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগে নতুন করে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত তীব্র হয়েছে। ভোটের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলায় সফরের আগেই এই বিতর্কে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ি সফরে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অভিযোগ, সেই সফরের সময় তাঁর নিরাপত্তা ও প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়নি। এই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় সরকার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মনীশ মিশ্রকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চেয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই দুই আধিকারিকই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস ও আইএএস কর্মকর্তা। তাঁদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে প্রয়োজন হলে কেন্দ্র তাঁদের ডেপুটেশনে ডেকে নিতে পারে।
রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকল সংক্রান্ত কোনও ত্রুটি সামনে এলে কেন্দ্র সরাসরি পদক্ষেপ করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা আইপিএস ক্যাডার বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনে রাজ্যের মতামত উপেক্ষা করেও কোনও আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে নেওয়া সম্ভব।
সুপ্রিম কোর্টও IPS (Cadre) Rules, 1954-এর ৬(১) ধারার বৈধতা স্বীকার করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস আধিকারিকদের বদলি বা ডেপুটেশন সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। এমনকি কোনও রাজ্য সরকার যদি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
এছাড়া ২০১১ ব্যাচ বা তার পরের আইপিএস অফিসারদের ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন কার্যত বাধ্যতামূলক। তা না হলে ভবিষ্যতে ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের এমপ্যানেলমেন্টে সমস্যা তৈরি হতে পারে।