Radharaman Das ISKCON: কলকাতা ইসকনের সব দায়িত্ব থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে, বিস্ফোরক দাবি

কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতির পদ ও সব দায়িত্ব থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থন-সহ একাধিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
কলকাতা ইসকনের সব দায়িত্ব থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে, বিস্ফোরক দাবি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থন-সহ একাধিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাইলাইটস
  • রাধারমণ দাসকে কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।
  • আপাতত ইসকনের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
  • রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে নিজেই জানিয়েছেন রাধারমণ দাস।

Radharaman Das ISKCON: রাধারমণ দাসকে কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। শুধু তাই নয়, আপাতত ইসকনের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা জনসমক্ষে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করতেও নিষেধ করা হয়েছে তাঁকে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে নিজেই জানিয়েছেন রাধারমণ দাস। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে সরব হওয়া-সহ একাধিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক্স পোস্টে রাধারমণ দাস জানান, ইসকন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ৭ দফা কারণ লিখিতভাবে জানিয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু এবং ইসকন ভক্তদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা, সেদেশে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের প্রকাশ্য সমর্থন ইত্যাদি কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি রাধারমণের।

মেনকা গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর ঘটনাকেও কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাধারমণ। পাশাপাশি, কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের, সনাতন ধর্মের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া এবং ১৯৭৬ সালের নিউ ইয়র্কের রথযাত্রার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ারের ঘটনাও উল্লেখ করা রয়েছে।

রাধারমণ আরও জানিয়েছেন, তাঁর 'কফিনে শেষ পেরেক' ছিল এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। তার লিঙ্কও দিয়েছেন। সেখানে সংবাদমাধ্যমের স্টুডিওতে তাঁকে নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে।

ইসকন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করছেন বলেই জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে সংগঠনের নির্দেশ মেনেই চলবেন। তিনি লিখেছেন, এখন থেকে ইসকনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করবেন না। জনসমক্ষে সংগঠনের প্রতিনিধিত্বও করবেন না।

হঠাৎ এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে ইসকনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন রাধারমণ দাস। রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক কর্মসূচি এবং সরকারি মঞ্চেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও তাঁর নাম নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা ছিল। বিভিন্ন সরকারি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন রাধারমণ। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

Advertisement

প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ইসকনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা বিবৃতি মেলেনি।  

POST A COMMENT
Advertisement