বারুইপুরের ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল।-ফাইল ছবিদক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। মঙ্গলবার ধৃত তিন অভিযুক্ত, কবির মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্তকারীদের সঙ্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দলও উপস্থিত ছিল। তারা ঘটনাস্থল থেকে নতুন কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেললাইনের পাশের যে এলাকায় নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেখানেই এই পুনর্নির্মাণের কাজ হয়। দুই নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের দিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনরায় দেখানো হয়। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে ইতিমধ্যে সংগৃহীত প্রমাণের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা।
এক পুলিশ অফিসার জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নতুন নমুনাগুলিও ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এগোনো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই মামলার আর এক অভিযুক্ত প্রভাষ মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর মঙ্গলবারের পুনর্নির্মাণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে, গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, এই মামলার তদন্ত ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং এমনভাবে তদন্ত হবে, যা ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নির্যাতিতার বাবা।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাকে ঘিরে মোট চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা ছাড়াও গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ ও ভাঙচুর এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত ও রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগেও পৃথক এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।