দুর্গাপুজোয় কত টাকার মদ বিক্রি? এই প্রথম দুর্গাপুজোর মধ্যে ছিল ড্রাই ডে। অষ্টমীর দিন সম্পূর্ণ ভাবে মদ কেনাবেচার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল শুভেন্দু সরকার। এমনকী, মদ সার্ভ করা নিষেধ ছিল বার, পাবগুলিতেও। তবে তার মধ্যেই গত বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে মদ বিক্রি হয়েছে চলতি পুজোয়। কোন কোন জেলায় রেকর্ড মদ বিক্রি হয়েছে? দেশি, বিদেশি না বিয়ার, কীসের চাহিদা ছিল বেশি? জেনে নিন সবটাই...
পশ্চিম মেদিনীপুর: গত বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে মদের বিক্রি। জেলা আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, ছাব্বিশের পুজোয় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত অর্থাৎ ১৬-২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই রাজ্যে বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার লিটার। দেশি মদের বিক্রির পরিমাণ ২ লক্ষ ২১ হাজার ৫০০ লিটার। এই ক'দিনে বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৭২ হাজার লিটার।
গত বছর ২ অক্টোবর দশমী পড়েছিল। সেদিন মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসের কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই মদের কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। তা সত্ত্বেও এই জেলায় বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ ৭২ হজার লিটার। দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার লিটার। বিয়ার বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে ২০২৫ সালের তুলনায় এ বার মদ বিক্রি লাফ দিয়ে বেড়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর: গত বছর পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত এই জেলায় মদ বিত্রি হয়েছিল প্রায় ৩৯ কোটি ৭৮ হাজার টাকার। এ বছর ১৩ কোটি বেড়ে পুজোর কয়েকদিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মদ বিক্রির মোট অঙ্ক ছাড়িয়েছে ৫২ কোটি টাকা। গত বছর বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার লিটার। চলতি বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ১৩ হাজার লিটার। গত বছরের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার থেকে দেশি মদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার। বিয়ারের বিক্রি গত বছরের ৩ লক্ষ ১০ হাজার লিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার লিটার।
কোচবিহার: এ বছর কোচবিহার সদরে সবচেয়ে বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত ৭০টি মদের দোকান রয়েছে কোচবিহার সদরে। ২০২৫ সালে মোট ২৪ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে মোট ২৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকার মদ বেশি বিক্রি হয়েছে কোচবিহারে। এ বছর দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৭০২ লিটার। বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ১৭১ লিটার। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৫২ লিটার। এর মধ্যে নবমীতেই সবচেয়ে বেশি টাকার (৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা) মদ বিক্রি হয়েছে।