রেজিনগরে কে কত ভোট পেল? পুজোর আগে উপনির্বাচনের ভোটের ফলাফল ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তবে নন্দীগ্রাম হোক বা রেজিনগর, দুই কেন্দ্রে রেকর্ড জয়ের পথে রাজ্যের শাসকদল। বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফল মোটামোটি পরিষ্কার। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রীর নিজের এলাকায় BJP প্রার্থী হাসিরানি রথ রেকর্ড গড়ার পথে, অন্যদিকে তখন মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও বিপুল সমর্থন পেলেন গেরুয়া প্রার্থী।
সকাল থেকেই রেজিনগরের ট্রেন্ড শাসকদলের পক্ষেই। কাউন্টিং রাউন্ড যত এগোচ্ছে, ততই মার্জিন বাড়াচ্ছেন BJP প্রার্থী শাখারভ সরকার। ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও BJP এই কেন্দ্রে বিপুল সমর্থন পেয়েছেন।
রেজিনগরে ১২ রাউন্ড গণনার শেষে (এই হিসেব দুপুর ১টা পর্যন্ত) BJP প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭০ হাজার ২৫০ ভোটে এগিয়ে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে AJUP, কংগ্রেস এবং CPIM। পঞ্চম স্থানে মমতা তৃণমূল। গণনা হবে ১৫ রাউন্ড।
ট্রেন্ড দেখেই শাখারভ সরকার বলেন, 'অসাধারণ ফল হচ্ছে।'
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগর কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে সেখানে উপনির্বাচন হয়। রেজিনগর কেন্দ্র ছেড়ে দিলেও হুমায়ুন নিজের পুত্র গোলাম নবি আজাদকে সেখানে প্রার্থী করেছিলেন। কিন্তু উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগেই তিনি হার মেনে নিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোট চলাকালীন হুমায়ুনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানান, শুভেন্দু কথা রাখেননি। ‘গদ্দারি’ করেছেন পুত্র গোলামও। তাই রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোলাম নিজেও ভবিষ্যদ্বাণী করে দেন। জানান, রেজিনগরে বড় ব্যবধানে জিতবে BJP-ই। জনতার রায় নয়, একে ভোট লুটের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রেজিনগরে গণনাকেন্দ্রেই সব বিরোধী দলের এজেন্টদের দেখা যায়নি শুক্রবার সকালে। এখনও পর্যন্ত হুমায়ুনের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং মমতা তৃণমূলের কোনও এজেন্ট সেখানে নেই। তবে কংগ্রেস, বাম, ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূলের এজেন্টরা রয়েছেন।