রবিউল আলম চৌধুরী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের হারের পর মুছে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক ও দলের নাম তো গেলই, উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রের প্রার্থীও হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগরের মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতীক পাচ্ছেন না তাই মানুষের কাছে তিনি পৌঁছতে পারবেন না। নতুন প্রতীক চেনানো সমস্যাজনক ফলত কর্মীরাই তাঁকে ভোটের ময়দান থেকে সরে যেতে বলেছে বলে জানান রবিউল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে দেখা করার পরই মমতা তৃণমূলের হয়ে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা জানিয়েছিলেন, রেজিনগর নিয়ে তিনি পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। শনিবারই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। মনোনয়ন জমা করারও আর কোনও সুযোগ নেই। ফলে রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী সরে দাঁড়ানোয় এবারের উপনির্বাচনে মমতা তৃণমূলের কোনও 'অস্তিত্বই' থাকল না। রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই মমতার আর কোনও প্রার্থী রইলেন না।
রবিউল আলমের কথায়, 'কর্মীদের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নতুন সিম্বল চেনানো সম্ভব নয় এত তাড়াতাড়ি। এভাবে ভোট করব কীকরে। আমি কাল রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবটা জানিয়েছিলাম। উনি তা-ও বলেছিলেন নতুন প্রতীক নিয়েই নেমে পড়তে। কিন্তু এত দ্রুত মানুষকে নতুন সিম্বল চেনানো যায় নাকি! তাই আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম।'
কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'টেন পাশ নেতা বলেছিলেন, নন্দীগ্রামে অঘটন ঘটাবে তাঁদের প্রার্থী। শুক্রবার নন্দীগ্রামে আর শনিবার রেজিনগরে তাদের সঙ্গেই অঘটন ঘটে গেল। নেত্রী গোল দিতে মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু তাঁর সব গোল সেমসাইড হয়ে যাচ্ছে।' প্রসঙ্গত, শুক্রবার ফুটবল খেলোয়াড় চিহ্ন পাওয়ার পর রবিউল নিজের ফেসবুক পেজে তা ফলাও করে আপডেট করেন। ওই প্রতীকের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে ভোটের প্রচারও শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল করে জানালেন, ভোটে লড়বেন না।
এদিকে, নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর। রেজিনগরেও তিনি তেমনটা করবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানানো হয়নি।