তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন জ্যোতিপ্রিয়ও, মমতার অত্যন্ত প্রিয় বালুর হঠাত্‍ U-টার্ন

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করার সময় থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বও সামলেছেন।

Advertisement
তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন জ্যোতিপ্রিয়ও, মমতার অত্যন্ত প্রিয় বালুর হঠাত্‍ U-টার্নফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়।
  • সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

কয়েকদিন আগেই তাঁকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জাতীয় কর্মসমিতিতেও স্থান পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বালু’ নামেই অধিক পরিচিত।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করার সময় থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বও সামলেছেন।

রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় প্রকাশ্য সভা থেকে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। দলের প্রতি তাঁর অবদান এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে নেত্রী একাধিকবার তাঁর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিলেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই আস্থার প্রতিফলন দেখা যায়। দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও হাবড়া কেন্দ্র থেকে তাঁকেই প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের পর থেকেই তাঁকে দলীয় কর্মসূচি ও জনসমক্ষে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছিল।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, দল এখনও তাঁর উপর আস্থা রাখছে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সব পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

যদিও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথাই জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একদা অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতার হঠাৎ সরে দাঁড়ানো ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement