পাহাড়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! উত্তরবঙ্গের বক্সায় ২টি বাঘ ছাড়ার তোড়জোড়

রাজ্য বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, সুন্দরবনে ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত বাঘ রয়েছে। সেখানে বাইরের কোনও বাঘকে ছেড়ে দিলে তার টিকে থাকা কঠিন। তাই সুন্দরবনের পরিবর্তে বক্সাতেই পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
পাহাড়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! উত্তরবঙ্গের বক্সায় ২টি বাঘ ছাড়ার তোড়জোড়কয়েক দশক পর পর্যটকদের সামনে রয়্য়াল বেঙ্গল; বক্সায় উচ্ছ্বাস
হাইলাইটস
  • উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে আবারও বাঘ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।
  • শীর্ষস্থানীয় শিকারি প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে আবারও বাঘ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। শীর্ষস্থানীয় শিকারি প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

মঙ্গলবার কলকাতায় জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই)-এর ১১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকায় পশ্চিমবঙ্গের উপযুক্ত এলাকায় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাঘ পুনর্বাসনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজস্থানের সরিস্কা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসনের সাফল্যের কথা তুলে ধরে যাদব বলেন, ২০০৮ সালে যেখানে বাঘের সংখ্যা শূন্যে নেমে গিয়েছিল, বর্তমানে সেখানে ৫৬টি বাঘ রয়েছে। একই ধরনের পরিকল্পনা এবার 'রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার'-এর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা চলছে।

যদিও মন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনও এলাকার নাম উল্লেখ করেননি, বন দফতরের অফিসারদের মতে, তাঁর বক্তব্য মূলত বক্সা টাইগার রিজার্ভকে কেন্দ্র করেই। সূত্রের খবর, আগামী ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে বক্সায় বাঘ পুনর্বাসন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে দুটি বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিহারের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে আনা হতে পারে।

রাজ্য বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, সুন্দরবনে ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত বাঘ রয়েছে। সেখানে বাইরের কোনও বাঘকে ছেড়ে দিলে তার টিকে থাকা কঠিন। তাই সুন্দরবনের পরিবর্তে বক্সাতেই পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। সংরক্ষণকে আর শুধুমাত্র পরিবেশগত বিষয় হিসেবে দেখা হয় না; এটি এখন টেকসই উন্নয়ন এবং 'বিকশিত ভারত'-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তিনি আরও জানান, মিশন লাইফ (Mission LiFE), ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (CDRI), ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করছে।

Advertisement

মন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর দেশে ব্যাঘ্র প্রকল্পের সংখ্যা ৪৭ থেকে বেড়ে ৫৮-এ পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যে এশীয় সিংহের সংখ্যাও ২০১৫ সালের ৫২৩ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৮৯১-এ দাঁড়িয়েছে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement