সুন্দরবন।-ফাইল ছবিসরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ড্রাম বা প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি বন্ধ হওয়ায় সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীবেষ্টিত এলাকায় পরিবহণ পরিষেবা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভেসেল, লঞ্চ ও ভুটভুটি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।
ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ থেকে কচুবেড়িয়া রুটের ভেসেল ঘাটে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়মের কারণে ভেসেল পরিষেবা অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
সুন্দরবনের অধিকাংশ জলযানেই জ্বালানি ড্রামে ভরে পেট্রোল পাম্প থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে পাম্পগুলি ড্রামে তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভেসেল, লঞ্চ ও ভটভটি মালিকরা। ফলে নিয়মিত পরিষেবা চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সাগরদ্বীপ, ঘোড়ামারা, মৌসুনি-সহ সুন্দরবনের একাধিক দ্বীপাঞ্চলে ফেরি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
লট নম্বর ৮-কচুবেড়িয়া ভেসেল পরিষেবার ইনচার্জ জানান পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, এখনই বলা কঠিন। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই পরিষেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলিও। তাঁদের দাবি, ড্রামে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। শুধু মৎস্য শিল্প নয়, সুন্দরবনের জনজীবন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবাও এর প্রভাবের মুখে পড়বে।
সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবহণ কর্মী, মৎস্যজীবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে।