সরকারের আশ্বাসে উঠছে বাসকর্মীদের আন্দোলনএসবিএসটিসির অস্থায়ী কর্মীদের কর্ম বিরতির জেরে চূড়ান্ত দুর্ভোগ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষদের। জেলায় জেলায় ছবিটা প্রায় একই। দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম, সর্বত্রই গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে, চরম হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন সাধারণ যাত্রীরা। গত সপ্তাহ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন বাস ডিপোতে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গেলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন বাস-সমস্যায় নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা। কবে কাটবে এই অচলাবস্থা, উত্তর নেই কারও কাছেই। তবে অবশেষে এল স্বস্তির খবর। বড় ঘোষণা করলেন পরিবহনমন্ত্রী। যার জেরে উঠে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলন।
এসবিএসটিসি অস্থায়ী কর্মীদের কর্ম বিরতির প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক বাস পরিষেবার উপরে। এর জেরে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দূর দূরান্তে যাওয়া যাত্রীরা। অস্থায়ী বাসকর্মীদের দাবি, অবিলম্বে তাদের মাইনে বাড়াতে হবে এবং সঠিক সময়ে তাদের ডিউটি দিতে হবে। এই দাবি নিয়েই দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন বাস ডিপোয় বিক্ষোভ-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আগেই আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে নামা হবে। শাসক দলের পতাকা নিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি চলছে।
পুজোর মুখে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ
সপ্তাহব্যাপী কর্মবিরতিতে পুজোর মুখে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ। পুজোর আগে কারও বাড়ি ফিরতে সমস্যা, কেউ আবার কর্মসূত্রে জেলায় গিয়ে আটকে পড়েছেন। এমনকী, টিকিট বুক করার পরও অনেকে ফিরতে পারছেন না। হাওড়ার বাস ডিপোয় আন্দোলন কিছুটা শিথিল হলেও বর্ধমান, দুর্গাপুর, মেদিনীপুর সহ আন্দোলনের কেন্দ্র দিঘায় SBSTC বাস ডিপোয় আন্দোলন চলছে। SBSTC-র অস্থায়ী বাস কর্মীদের আন্দোলনের জেরে পুজোর মুখে সপ্তাহের প্রথম দিনও চরম ভোগান্তির শিকার হলেন নিত্যযাত্রীরা। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবিগুলির মধ্যে ২৬ দিন কাজ দেওয়ার বিষয়টিতে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দাবি পূরণের ব্যাপারে লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন SBSTC-র অস্থায়ী কর্মীরা।
ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাতায়াত
এই পরিস্থিতিতে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, বেসরকারি বাসের ছাদে চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিভিন্ন বাস ডিপোতে কর্মীর অভাবে অচল পরিষেবা। দুর্ভোগ এড়াতে অনেকেই ট্রেন ধরছেন। SBSTC-র কর্মীদের আন্দোলনের জেরে দিঘা-মন্দারমণির পর্যটকেরদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ অনেকেই এই বাসে করেই সৈকত শহরে ঘুরতে যান। আশঙ্কিত হোটেল ব্যবসায়ীরাও। ইতিমধ্যে পুজোর বুকিং হয়ে গিয়েছে। SBSTC-র কর্মীদের আন্দোলনের জেরে পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করবেন কিনা তা ভেবে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। এদিকে লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় অনড় অস্থায়ী বাসকর্মীরা।
আশ্বাস দিলেন পরিবহনমন্ত্রী
রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী গোটা পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, 'রাজ্য সরকার মানবিক, আলোচনায় বসব। তবে মানুষের অসুবিধা করে কিছু করা যাবে না।' তবে পরিবহনমন্ত্রী অস্থায়ী কর্মীদের দাবি মেনে মাসে ২৬ দিন কাজের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তার বদলে অবিলম্বে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। পুজোর পর ছুটি সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়েও আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই আশ্বাসের পরে, প্রেসবিবৃতি দিয়ে কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন আন্দোলনরত অস্থায়ী কর্মীরা। আপাতত শুঘু দিঘা ডিপো থেকে কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার কথা হয়েছে। এই ডিপো থেকেই সবার আগে কর্মবিরতির আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আশা করা হচ্ছে দ্রুত যাত্রীদের হয়রানি শেষ হবে। পুজো আসতে আর দেরি নেই, তার আগেই এই দুর্ভোগের মেঘ কাটবে, আশা এখন আম জনতার।