AI-এর যুগে স্কুলে Smartphone ব্যান আদৌ যুক্তিযত? যা বললেন মনোবিদ

স্কুলে পড়ুয়াদের মোবাইল নিষিদ্ধ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? মনোবিদ বলছেন, শুধু ফোন কেড়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আরও এক ধাপ এগোতে হবে আমাদের।

Advertisement
AI-এর যুগে স্কুলে Smartphone ব্যান আদৌ যুক্তিযত? যা বললেন মনোবিদনিয়মিত এমন হলে পড়াশোনায় প্রভাব পড়তেই পারে।
হাইলাইটস
  • স্কুলে মোবাইল ব্যবহার বন্ধের পক্ষে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • ফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করলেই কি পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে?
  • মনোবিদ যা বললেন।

School Mobile Phone Ban: স্কুলে মোবাইল ব্যবহার বন্ধের পক্ষে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউ টাউনে শিক্ষক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, এতে তাঁর ভোটও কমতে পারে। কিন্তু তবুও তিনি স্কুলে ফোনের ব্যবহার কমাতে চান। বলেন, গুজরাতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, স্কুলে মোবাইল ফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করলেই কি পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে? নাকি পড়ুয়াদের ফোন ব্যবহারের সঠিক অভ্যাস শেখানোই বেশি জরুরি?

ক্লাসে ফোন কি সত্যিই বড় সমস্যা?
মনোবিদ পৌলমী সাহা বললেন, 'স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মনোযোগ নষ্ট হওয়া। ক্লাস চলার সময় একটি মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বা গেমের নোটিফিকেশনে পড়ুয়ার মন অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। এমনিই আজকাল রিলস দেখে লোকের অ্যাটেনশন স্প্যান কমে গিয়েছে।'

ফলে শিক্ষক পড়াচ্ছেন এক দিকে। পড়ুয়ার চোখ তখন অন্য জায়গায়। নিয়মিত এমন হলে পড়াশোনায় প্রভাব পড়তেই পারে।

আবার ফোনের ব্যবহার সব সময় খারাপও নয়। পড়াশোনার প্রয়োজনে তথ্য খোঁজা, অনলাইন পড়ার ভিডিও বা AI ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ফোন কাজে লাগে। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ফোন বন্ধ করলে কি মন ভাল থাকবে?
মনোবিদের মতে, 'এই বিষয়টি আরও জটিল। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কঠোর মোবাইল নীতি থাকলেও পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতার সূচকে খুব বড় পার্থক্য সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ফোন নিষিদ্ধ করলেই ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপ কমবে; এমন কোনও গ্যারান্টি নেই।' 

তাহলে উপায়?
'শুধু মোবাইল কেড়ে নিলেই পড়ুয়ার সমস্যার সমাধান হবে না। স্কুলে ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার ঠিকই। কিন্তু একই সঙ্গে শিশুকে কেন ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে, সেটিও বোঝাতে হবে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ,' বলছেন মনোবিদ।

কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব?
পৌলমীর মতে, শিশুকে শুধু নিয়ম মানতে বাধ্য করলে হবে না। তাকে নিয়মের কারণ বোঝাতে হবে। ফোনের অপব্যবহারের বদলে সঠিক ব্যবহার শেখাতে হবে। বললেন, 'ফোন থেকে এখন গেমের মাধ্যমে কোডিং শেখা যায়। জেনেরাল নলেজ বাড়ানো যায়। বিশ্বের বিভিন্ন খবরের বিষয়ে আপডেটেড থাকা যায়। আর আজকাল তো AI এসে গিয়েছে। কোনও পড়াশোনার টপিক বুঝতে সমস্যা হলে কীভাবে AI-এর সাহায্য নেওয়া যায়, তা ছোটদের শেখাতে হবে।'

Advertisement

ফলে স্কুলে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা কিছু ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত হলেও, সেটি একমাত্র সমাধান নয়। ক্লাসে মনোযোগ বাড়াতে ফোন নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কিন্তু পড়ুয়ার ডিজিটাল অভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।  

POST A COMMENT
Advertisement