অপরূপা পোদ্দার ও শাকির আলি।-ফাইল ছবিহুগলির রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর তথা আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী শাকির আলিকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ২০২৩ সালের রামনবমীকে ঘিরে রিষড়ায় ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে চারটি সিআরপিএফ গাড়ি নিয়ে এনআইএ-র একটি দল রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাকির আলির বাড়িতে পৌঁছায়। সে সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। তল্লাশির পর তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় তদন্তকারীরা। পরে তাঁর গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির সামনে ভিড় জমে যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রামনবমীকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলার তদন্তভার বর্তমানে এনআইএ-র হাতে রয়েছে। ওই তদন্তের সূত্র ধরেই শাকির আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
শাকির আলি দীর্ঘদিন ধরে রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁর স্ত্রী অপরূপা পোদ্দার পরপর দু'বার আরামবাগ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি দল। টিকিট না পাওয়ার পর প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অপরূপা। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিপুল অর্থবল না থাকায় তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। যদিও তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের সাধারণ কর্মী হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এদিকে একই দিনে হুগলিতেই আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ পিয়ারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সুদর্শন বরকে গ্রেফতার করেছে। তিনি শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চাঁপদানির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুইনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
চাঁপদানির বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিংহের অভিযোগ, সুদর্শন বরের বিরুদ্ধে বিরোধী কর্মীদের মারধর, জমি দখল, পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, শিল্প প্রকল্প ঘিরে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দলীয় কার্যালয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ধৃতকে মঙ্গলবার শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে শাকির আলি কিংবা সুদর্শন বর, দু'জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে।