শমীক ভট্টাচার্য ও নরেন্দ্র মোদী।-ফাইল ছবিবিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ের অন্যতম মুখ শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরে এবার নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যে সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিকল্প খোঁজার আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এটি কোনও ‘সরানোর’ প্রক্রিয়া নয়, বরং তাঁকে আরও বড় দায়িত্বে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ।
সূত্রের খবর, শমীক ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদি তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যেতে আগ্রহী না হন, সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অধীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বা কর্পোরেশনের শীর্ষ পদেও তাঁকে বসানোর ভাবনা রয়েছে।
এর পিছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। ৬২ বছর বয়সী শমীক ভট্টাচার্য বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। ফলে রাজ্যজুড়ে লাগাতার সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সফর চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একইসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ সংগঠনে নতুন করে রদবদলের পরিকল্পনা করছে। আগামী দিনে সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। সেই কারণেই নতুন রাজ্য সভাপতির সম্ভাব্য নাম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। অন্যদিকে মহিলা মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির সংগঠন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুলাই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান শমীক ভট্টাচার্য।
মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এনে নজির গড়েন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলের ভিত মজবুত করেন। দিলীপ ঘোষের মতো প্রবীণ নেতাদেরও সক্রিয়ভাবে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি।
সূত্রের দাবি, শুধু রাজ্য সভাপতির পদই নয়, বিজেপির গোটা রাজ্য কমিটিতেও বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের মধ্যে অধিকাংশকেই বদল করা হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন সাংগঠনিক রূপরেখা কেমন হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।