
অশোক ভট্টাচার্য- ফাইল ছবি।শিলিগুড়িতে বাম ইস্তাহারে অভিনবত্বের ছোঁয়া। শহরের নিকাশি-উন্নয়নের মতো ধরাবাঁধা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে নজর কেড়েছে পাড়ায় পাড়ায় মেয়েদের জিম খোলার পরিকল্পনা। নবীনা ভোটকে নিজেদের দিকেই টানতে এ প্রয়াস বলে মনে করছেন অনেকে। ফোনে আজতক বাংলাকে অশোক ভট্টাচার্য বলেন,''আমরাই বোর্ড গঠন করব।''
এ দিন দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের দলীয় কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেন নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাম প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জীবেশ সরকার-সহ অন্যান্যরা। বাম নির্বাচনী ইস্তাহারে গুরুত্ব পেয়েছেন মহিলারা। নজর কেড়েছে পাড়ায় পাড়ায় মহিলাদের জিম তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। যা বাংলায় রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রের ইতিহাসে বেনজিরই বলা চলে। পাশাপাশি 'ফিট শিলিগুড়ি' গড়ার অঙ্গীকারে বলা হয়েছে, প্রতি ওয়ার্ডে জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাজারে এমার্জেন্সি ওয়ার্ড ও ফাস্ট এইডের ব্যবস্থা করা।
আরও পড়ুন- সবই তো চলছে, পুরভোট নয় কেন? হাইকোর্টে সওয়াল রাজ্যের
আজতক বাংলার সঙ্গে এ দিন কথা বললেন শিলিগুড়িতে বাম শিবিরের সেনাপতি অশোক ভট্টাচার্য।


প্রশ্ন: গত বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়িতে বিজেপি জিতেছিল। এবার কী হবে?
অশোক: বিজেপি আর কোনও ফ্যাক্টরই নয়। আমাদের ভোট বিজেপিতে চলে গিয়েছিল। সেটা ফিরছে বলেই আমরা দাবি বোর্ড গঠন করব।
প্রশ্ন: শিলিগুড়িতে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জিতবেন?
অশোক: যে ভোটটা বিজেপি পেয়েছিল সেটা তৃণমূল বিরোধী ভোট। এবার অধিকাংশ আসনেই সিপিএম প্রার্থীকে বেছে নেবেন মানুষ। কয়েকটি আসন ওরা পাবে। লড়াই করার মতো ক্ষমতা নেই। বড়জোর ৫-৬টি আসন পেতে পারে। বামফ্রন্টের আসন বাড়বে।
প্রশ্ন: ত্রিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূলের ফায়দা হবে না?
অশোক: বিজেপি সরকারে আসছে সেই আশায় অনেক মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। সেই প্রত্যাশা আর নেই। এবার বিজেপি সভা-সমাবেশই করতে পারেনি। মানুষ বামেদেরই বিকল্প হিসেবে বেছে নেবেন।
প্রশ্ন: তাহলে আপনারা ফিরছেন?
অশোক: শিলিগুড়ির মানুষ পথ দেখিয়েছিল। তাঁদের বলছি, আবার গর্বের জায়গায় নিয়ে যান।
প্রশ্ন: মেয়েদের জন্য়ে জিমের ভাবনা কীভাবে?
অশোক: শরীরচর্চা নিয়ে আগের চেয়ে মহিলারা সজাগ হয়েছেন। সকালে হাঁটেন তাঁরা। জিম হলে তাঁরা সেখানে গিয়ে শরীরচর্চা করতে পারবেন।
আগামী ২২ জানুয়া শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচন। অনেকের মতে, পাড়ায় পাড়ায় মেয়েদের জিমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মেয়েদের ভোট নিজেদের ইভিএমে আনার চেষ্টা করল বামেরা।
আরও পড়ুন- শুভেন্দু কেন? হাইকোর্টে গঙ্গাসাগর কমিটির পুনর্গঠন-আর্জি রাজ্যের