শিলিগুড়িকে ঘিরবে ১৮০ কিলোমিটারের রিং রোড, তরাই-ডুয়ার্স যাতায়াত হবে আরও দ্রুত ও সোজাশিলিগুড়ি শহরের চেনা যানজট সমস্যা দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রশাসন। শহরকে কেন্দ্র করে এবার ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রিং রোড তৈরি হতে চলেছে এবং এর কাজ শুরু হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই মেগা প্রকল্পের ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।
রাজ্যের পূর্তসচিব অন্তরা আচার্য, পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নির্মল মণ্ডল, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলা শাসক এবং জিটিএ-র প্রধান সচিবের উপস্থিতিতে এই বৈঠক হয়। সাংসদ জানান, শিলিগুড়ির যানজটের কথা মাথায় রেখে মোট ১৮০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ দুটি ভাগে করা হবে এবং প্রথম ৮৫ কিলোমিটারের কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শেষ করা হবে। প্রস্তাবিত এই রিং রোডটি গোরখপুর থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত নির্মীয়মাণ এক্সপ্রেস হাইওয়ে থেকে শুরু হয়ে পানিঘাটা হয়ে শালুগাড়ায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে মিশবে এবং তারপর সেবক হয়ে ওদলাবাড়ি যাবে। ওদলাবাড়ি থেকে পূর্ত দপ্তর ও প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা ব্যবহার করে এটি সরাসরি জলপাইগুড়িতে পৌঁছাবে।
পাহাড়ের যানজট নিয়ন্ত্রণেও এই বৈঠকে একাধিক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্সিয়াং থেকে ঘুম পর্যন্ত যানজটের লাগাম টানতে ওল্ড মিলিটারি রোড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পূর্ত দপ্তর এই রাস্তাটি অধিগ্রহণ করে দ্রুত সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ করবে এবং এর ফলে খুব শীঘ্রই ওই রুটে একমুখী যানবাহন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের আমলে তৈরি হওয়া রোহিনী রোডটি এতকাল জিটিএর অধীনে থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার স্বার্থে সেটিকে পূর্ত দপ্তরের দার্জিলিং হাইওয়ে ডিভিশনের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি মাটিগাড়া থেকে মিরিক বা বালাসন হয়ে একটি নতুন বিকল্প রাস্তার কাজ দু-তিন দিনের মধ্যে শুরু হতে চলেছে। কালিম্পং থেকে দার্জিলিং যাতায়াত আরও সহজ করতে লেবং থেকে তিস্তাবাজার পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সার্কুলার রোড তৈরি করা হবে যা পেশক রোড ছুঁয়ে তিস্তাবাজারে গিয়ে পৌঁছাবে।